০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এমবিএ বিভাগের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাইম খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই মামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা পারভীন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মোহাম্মদ নাইম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৯৬তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে নাইম খানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাইম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে নাইম একটি প্রাইভেটকার নিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর খাদ্যগুদাম এলাকায় যান। সেখানে কথা বলার কথা বলে ওই ছাত্রীকে গাড়িতে তোলা হয়। পরে তাকে একটি পানীয় পান করতে দেওয়া হয়। পানীয়টি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নাইমের বন্ধু হৃদয়ের বাড়িতে দেখতে পান। সেখানে তাকে ওষুধজাতীয় পদার্থ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বলেন, পানীয়টি খাওয়ার পর আমি অচেতন হয়ে যাই। পরে জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে মোড়েলগঞ্জে দেখতে পাই।”**

মামলার নথি অনুযায়ী, মোড়েলগঞ্জের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি ফরমে চিকিৎসকেরা এক দিন আগে ড্রাগস বা বিষপ্রয়োগের সম্ভাব্য ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাবি, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং তিনি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে ভুগছেন।

এ ছাড়া নাইমের বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী। তার দাবি, এতে তার ডান চোখ ও হাতে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ নাইম খান।

তিনি বলেন, অপহরণ, আটকে রাখা বা অচেতন করার যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেসব ভিত্তিহীন। তার কোনো ডকুমেন্টস নেই। মেয়েটির সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয় ছিল এবং সে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে স্বেচ্ছায় আমার বাড়িতে এসেছে। সে মনগড়া কাহিনি সাজিয়ে আমার ও আমার পরিবারের সম্মানহানি করছে। আমার এলাকার সব মানুষও বিষয়টি জানে।”**

ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় থানায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় তারা সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, **“আমাদের থানায় এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা জমা পড়েনি। তবে ভুক্তভোগী মেয়েটি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

ওসি আরও বলেন, তারা জানতে পেরেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার কিশোরগঞ্জের আদালতে অপহরণের মামলা করেছে। যেহেতু মামলাটি কিশোরগঞ্জে হয়েছে, তাই সেখানকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। তবে মোড়েলগঞ্জ এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ লাঘবে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ চায় যবিপ্রবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট: ০৯:৫৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এমবিএ বিভাগের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাইম খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। একই মামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা পারভীন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মোহাম্মদ নাইম খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ৯৬তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে নাইম খানের সঙ্গে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নাইম তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৯ জুলাই বিকেলে নাইম একটি প্রাইভেটকার নিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর খাদ্যগুদাম এলাকায় যান। সেখানে কথা বলার কথা বলে ওই ছাত্রীকে গাড়িতে তোলা হয়। পরে তাকে একটি পানীয় পান করতে দেওয়া হয়। পানীয়টি পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজেকে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে নাইমের বন্ধু হৃদয়ের বাড়িতে দেখতে পান। সেখানে তাকে ওষুধজাতীয় পদার্থ খাইয়ে অচেতন অবস্থায় একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বলেন, পানীয়টি খাওয়ার পর আমি অচেতন হয়ে যাই। পরে জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে মোড়েলগঞ্জে দেখতে পাই।”**

মামলার নথি অনুযায়ী, মোড়েলগঞ্জের উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভর্তি ফরমে চিকিৎসকেরা এক দিন আগে ড্রাগস বা বিষপ্রয়োগের সম্ভাব্য ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর দাবি, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং তিনি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে ভুগছেন।

এ ছাড়া নাইমের বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী। তার দাবি, এতে তার ডান চোখ ও হাতে আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ নাইম খান।

তিনি বলেন, অপহরণ, আটকে রাখা বা অচেতন করার যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেসব ভিত্তিহীন। তার কোনো ডকুমেন্টস নেই। মেয়েটির সঙ্গে আমার ফেসবুকে পরিচয় ছিল এবং সে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে স্বেচ্ছায় আমার বাড়িতে এসেছে। সে মনগড়া কাহিনি সাজিয়ে আমার ও আমার পরিবারের সম্মানহানি করছে। আমার এলাকার সব মানুষও বিষয়টি জানে।”**

ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্থানীয় থানায় প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কায় তারা সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালতের নির্দেশের পর ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, **“আমাদের থানায় এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা জমা পড়েনি। তবে ভুক্তভোগী মেয়েটি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

ওসি আরও বলেন, তারা জানতে পেরেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার কিশোরগঞ্জের আদালতে অপহরণের মামলা করেছে। যেহেতু মামলাটি কিশোরগঞ্জে হয়েছে, তাই সেখানকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। তবে মোড়েলগঞ্জ এলাকায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটির তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।