বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই নষ্ট করা যাবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের সম্মান রক্ষা করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি শেখ হাসিনার দেখানো পথ ও ভাষায় কথা বলি কিংবা আচরণ করি, তাহলে সেটি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতির অন্তরায় হবে। আমরা কেউই সেই অন্ধকার সময়ে ফিরে যেতে চাই না। তাই গণতন্ত্রের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি শুরুর আগে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। র্যালিটির নেতৃত্ব দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ দিয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তার নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে রায় দেবেন। তাই গণতন্ত্রের ভাষা হলো জনগণের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০০৮ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হওয়া “মানুষ বাঁচাও, দেশ বাঁচাও” আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। দীর্ঘ আন্দোলনে অসংখ্য নেতাকর্মী কারাবরণ, নির্যাতন ও আত্মত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, “রাজপথে লড়াই করেছি, কারাবরণ করেছি—তাই বলে কারও ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানোর অধিকার আমাদের নেই। আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের রাজনীতি অনুসরণ করার স্বাধীনতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাউকে দেননি। কেউ যদি সেই পথ অনুসরণ করেন, তবে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন এবং বিএনপিতে তার স্থান হবে না।”
অমিত বলেন, যশোর একটি সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসের ঝুঁকি রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এসবের বিস্তার ঘটেছিল। তবে বর্তমান সরকার মাদক ও সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রশ্রয় দেবে না।
তিনি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সীমান্ত এলাকায় মাদক প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, গোলাম রেজা দুলু, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাডভোকেট হাজী আনিসুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতুসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।




















