লালমনিরহাটের আদিতমারী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের পর আটক হওয়া তিন ভারতীয় নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার বাসিন্দা হোসনেয়ারা বেগম তিনটি গরু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশে গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। এ সময় দিঘলটারী বিওপির একটি টহল দল তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে একটি গাভী ও দুটি বকনাসহ মোট তিনটি গরু জব্দ করা হয়।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে হোসনেয়ারা বেগমকে খুঁজতে তার ছেলে জাহিদ হোসেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা শ্রী অর্জুন বর্মন অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। স্থানীয়রা তাদের আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, সকালে এক নারী তিনটি গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করলে বিজিবি তাকে আটক করে। পরে আরও দুই ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেন।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাকিন আলী জানান, আটক নারী দাবি করেন তিনি ভুলবশত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। অন্যদিকে আটক দুই ব্যক্তি জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তারা বাংলাদেশে চলে আসেন বলে দাবি করেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সীমান্ত পিলার ৯২৬-এর কাছে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ১৫ বিজিবির দিঘলটারী বিওপির নায়েব সুবেদার সনাতন এবং ভারতের পক্ষে ৩/দরিবাস বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার এসআই মানজিৎ সিং নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকে বিএসএফ আটক ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত ও গ্রহণে সম্মত হলে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজিবি তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “এক নারী ও দুই পুরুষ ভুল করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের আটকের পর বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হয়। বিএসএফ তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করলে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়েছে।”




















