রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা উদ্ধারে নিষ্ক্রিয়তা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ বাস্তবায়নে গাফিলতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী উজানী বেগমের অভিযোগ, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো একটি চলাচলের সরকারি রাস্তা স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। রাস্তা পুনরুদ্ধারের দাবিতে তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ভুক্তভোগীর দাবি, সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তা দখলদারদের প্রতি নমনীয় আচরণ করেছেন। তিনি অর্থের বিনিময়ে প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তা দখল করে এর অস্তিত্বই প্রায় মুছে ফেলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও রেকর্ড সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভুক্তভোগীকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে শোনা যায়। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া স্থানীয়দের মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বিরুদ্ধে বালু উত্তোলন, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও খাজনা আদায়সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও শোনা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভুক্তভোগী এবং প্রতিবেদক একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিক জামানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিজে সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। এরপরও যদি ব্যবস্থা না হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের কোনো ব্যর্থতা থাকলে সেটি আমাদেরই ব্যর্থতা।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি রাস্তা উদ্ধার, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচারের আশা করবে কার কাছে।




















