চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুন নাহার স্বপ্না (৩৩)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে শাহরাস্তি পৌরসভার দোয়াভাঙ্গা এলাকার নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্না কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউনিয়নের বাংলাইস গ্রামের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ভাই মোতালেব হোসেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজমুন নাহার স্বপ্নার ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল। প্রথম স্বামী ওমর ফারুকের সঙ্গে শাহরাস্তি উপজেলার নাহারা গ্রামে বসবাসকালে তিনি একটি লেডিস টেইলারিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ওই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরকী গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনকে বিয়ে করেন। সেই সম্পর্কও বিচ্ছেদে শেষ হয়। সর্বশেষ একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল বলে জানা গেছে।
এছাড়া তিনি খিলা বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন এবং সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাত্র চার দিন আগে তিনি নিউ লাইফ হাসপাতাল ভবনের পঞ্চম তলায় দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি বাসা ভাড়া নেন। সোমবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তার দুই শিশুসন্তানের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে তারা বাসার একটি কক্ষে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
বাসার মালিকপক্ষের সদস্য মেহেদী হাসান জানান, প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজু স্বামী পরিচয়ে ওই বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শমশেদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















