০১:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৫৪, পানিবন্দি ৬ লাখের বেশি মানুষ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। বন্যার পানিতে সাত জেলার এক লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এছাড়া এসব জেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙ্গামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুইজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকারিভাবে এক হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন, অ্যান্টিভেনমসহ অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত

চাঁদপুরে সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৫৪, পানিবন্দি ৬ লাখের বেশি মানুষ

আপডেট: ১১:৫৯:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। বন্যার পানিতে সাত জেলার এক লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন মানুষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এছাড়া এসব জেলার ৩৩৪টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয়জন, রাঙ্গামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুইজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সরকারিভাবে এক হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার স্যালাইন, অ্যান্টিভেনমসহ অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তদারকির জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সার্বক্ষণিকভাবে তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের কাজ করছে।