যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিনের বাড়িতে প্রবেশ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন, যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার পিয়ারী মোহন রোডের বাসিন্দা মৃত কাজী সদরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম সুমন এবং মৃত আব্দুল বারীর ছেলে মামুন। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন উল্লেখ করেন, আসামিদের সঙ্গে তাঁর ও পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ জুন বিকেল ৫টার দিকে তিনি জেলা আইনজীবী সমিতি থেকে বাসায় ফেরার পথে রেলগেট মডেল মসজিদের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তাঁর পথরোধ করে। এ সময় তারা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাঁর স্ত্রী ও কন্যার অপূরণীয় ক্ষতি করার হুমকি দেয়। একই সঙ্গে সাত দিনের মধ্যে চাঁদার টাকা পরিশোধের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদার টাকা না পেয়ে গত ৬ জুলাই দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে আসামিরা লোহার রড নিয়ে বেজপাড়ায় অবস্থিত বাদীর বাসভবনে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা দরজায় লাথি মারতে থাকে। বাদীর স্ত্রী দরজা খুলতেই ঘরে প্রবেশ করে বাদীকে খুঁজতে থাকে। তাঁকে না পেয়ে আসামিরা বাদীর স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়।
এ সময় বাদীর মেয়ে মোবাইল ফোনে স্থানীয়দের খবর দিলে আশপাশের লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে আসেন। পরে আসামিরা আগামী দুই দিনের মধ্যে ৫ লাখ টাকা না দিলে পুরো পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর অ্যাডভোকেট কাজী সাইফুল ইসলাম তুহিন গত ৮ জুলাই আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে যশোর কোতোয়ালি থানাকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দিলে রোববার রাতে মামলাটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়।





















