০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

কুষ্টিয়ায় অপারেশন থিয়েটার থেকে রোগীর বিচ্ছিন্ন পা গায়েবের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক রোগীর বিচ্ছিন্ন ডান পা অপারেশন থিয়েটারে খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও হাসেম আলী (৬০) নামে ওই রোগীর বিচ্ছিন্ন ডান পা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারা।

নিহত হাসেম আলী কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন হাসেম আলী। দুর্ঘটনায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে তারা বিচ্ছিন্ন ডান পায়ের অংশটি আর খুঁজে পাননি। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন বলেন, “হাসেম আলী আমার প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই। হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের অবহেলা বা গাফিলতির কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি হাসপাতালের স্টাফরা নিহতের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি রাতে জেনেছেন। এরপর সেটির কী হয়েছে, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে নিহতের পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

রূপালী ব্যাংকে ৮০১ জনের নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে ৫ কর্মকর্তা

কুষ্টিয়ায় অপারেশন থিয়েটার থেকে রোগীর বিচ্ছিন্ন পা গায়েবের অভিযোগ

আপডেট: ১২:৩১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া এক রোগীর বিচ্ছিন্ন ডান পা অপারেশন থিয়েটারে খুঁজে না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে নিহতের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও হাসেম আলী (৬০) নামে ওই রোগীর বিচ্ছিন্ন ডান পা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তার পরিবারের সদস্যরা। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশ ছাড়াই মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাসপাতাল ত্যাগ করেন তারা।

নিহত হাসেম আলী কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার আব্দালপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।

স্বজনরা জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্দালপুরের শাহপুর নতুন মসজিদ মোড় এলাকায় একটি ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন হাসেম আলী। দুর্ঘটনায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে তারা বিচ্ছিন্ন ডান পায়ের অংশটি আর খুঁজে পাননি। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সেটির কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আব্দুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন বলেন, “হাসেম আলী আমার প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই। হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের অবহেলা বা গাফিলতির কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইকবাল হাসান বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় বিচ্ছিন্ন পায়ের অংশটি হাসপাতালের স্টাফরা নিহতের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন বলে তিনি রাতে জেনেছেন। এরপর সেটির কী হয়েছে, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে নিহতের পরিবার বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।