ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিল, নাকি এশিয়ার উদীয়মান শক্তি জাপান—আজকের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসবে কে? বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৯ জুন) রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ। বাঁচা-মরার এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার অন্যতম সেরা দল জাপান।
নকআউট পর্বের এই ম্যাচে হার মানেই বিদায়। আর জয়ী দল জায়গা করে নেবে রাউন্ড অব সিক্সটিনে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আইভরিকোস্ট অথবা নরওয়ে।
কাগজে-কলমে এবং পরিসংখ্যানের বিচারে ব্রাজিলই এই ম্যাচের স্পষ্ট ফেবারিট। বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে, যেখানে জাপানের অবস্থান ২৮ নম্বরে। বিভিন্ন পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় ৫৭ শতাংশের বেশি, অন্যদিকে জাপানের সম্ভাবনা ২০ শতাংশেরও কম। তবে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলে। এখন পর্যন্ত ১৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্রাজিল জয় পেয়েছে ১১টিতে, ড্র হয়েছে ২টি এবং জাপান জিতেছে মাত্র একটি ম্যাচ। তবে সেই একমাত্র জয়টি এসেছে সর্বশেষ দেখায়, যা জাপানকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেছিল জাপান।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ড্র করলেও পরবর্তী দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে তারা। অন্যদিকে, গ্রুপ ‘এফ’-এ নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের সঙ্গে ড্র এবং তিউনিসিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে রানার্সআপ হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করে জাপান।
জাপান দলের অন্যতম ভরসার নাম ৩৯ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ফুটবলার ইউতো নাগাতোমো। এশিয়ার প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্দীপনা নিয়ে এবারও চমক দেখানোর আশায় রয়েছে জাপান।
অন্যদিকে, ২৪ বছরের বিশ্বকাপ খরা কাটিয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মরিয়া ব্রাজিল। দলের অনুপ্রেরণা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত হয়েছেন দেশটির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তিরা। রোনালদো, কাফু, রবার্তো কার্লোস, কাকা, রিভালদো ও বেবেতোর মতো তারকারা দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন।
ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় সুখবর হলো, ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পোস্টার বয় নেইমার। প্রথম দুই ম্যাচে অনুপস্থিত থাকার পর শেষ ম্যাচে মাঠে নেমে নিজের ফিটনেসের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। আজ জাপানের বিপক্ষে শুরুর একাদশেই দেখা যেতে পারে তাকে।
এছাড়া দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে ইতোমধ্যে চার গোল করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। ইতিহাস বলছে, ব্রাজিলের হয়ে গ্রুপ পর্বের টানা তিন ম্যাচে যারা গোল করেছেন, তাদের সময়ে দলটি বিশ্বকাপ জিতেছে। তাই ভিনিসিয়াসের পারফরম্যান্স ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, নেইমার-ভিনিসিয়াসের ব্রাজিল কি বিশ্বকাপ জয়ের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে, নাকি আবারও চমক দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে জাপান।




















