০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় মনিরের যাবজ্জীবন, ২৬ দিনের মধ্যেই রায়

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:১১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলা দায়েরের মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যেই এ রায় ঘোষণা করা হলো, যা বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তির একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি গুদামঘরে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ কৌশলে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।

পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ তদন্ত সম্পন্ন করে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে ৯ জুন আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়।

গত ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি বিচারাঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

সর্বাধিক পঠিত

ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৬ বাংলাদেশি নারী

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় মনিরের যাবজ্জীবন, ২৬ দিনের মধ্যেই রায়

আপডেট: ০৫:১১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলা দায়েরের মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মধ্যেই এ রায় ঘোষণা করা হলো, যা বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তির একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি গুদামঘরে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার দাবি জানায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে জনতার দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ কৌশলে আসামিকে নিজেদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।

পরদিন ২২ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মনির হোসেনকে একমাত্র আসামি করে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। একইদিন বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়।

পুলিশ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদনসহ তদন্ত সম্পন্ন করে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। পরে ৯ জুন আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ওইদিন আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে বাদী, ভুক্তভোগী, চিকিৎসকসহ মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়।

গত ১৬ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বুধবার বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

দ্রুততম সময়ে বিচার সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটি বিচারাঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।