নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর যশোর শহরের চাঁচড়া মাগুরপট্টি এলাকায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী আত্মীয়কে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর রাতেই কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে রকি (৩০) নামে এক যুবককে আটক করেছে। আটক রকি চাঁচড়া ডালমিল এলাকার রাজ্জাক হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, রকি একজন চিহ্নিত অপরাধী এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বের একটি হত্যা মামলায় সাজা খাটার রেকর্ড রয়েছে।
পুলিশ ও ভিকটিম পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রাতে আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ওই ঘরের ভেতর এক গৃহবধূ ও তার ননদের কিশোরী মেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। গৃহবধূর স্বামী তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে রকি কৌশলে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। ঘরের অন্ধকার থাকায় প্রথমে ওই গৃহবধূ ভাবেন তার স্বামী ফিরে এসেছেন। এই সুযোগে রকি তাকে প্রথম ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূ জেগে উঠে বিষয়টি টের পেলে রকি তাকে হত্যার ভয়ভীতি ও হুমকি দেখায়। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই ঘরে থাকা কিশোরীটিকেও ধর্ষণ করে সে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গৃহবধূর স্বামী বাড়ি ফিরলে তাকে বিষয়টি জানানো হয় এবং রাতেই তারা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে পুলিশের আশ্রয় নেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে গভীর রাতে অভিযুক্ত রকিকে আটক করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আসামিকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে ভিকটিম দুজনকে ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল) জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। দুপুরের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আসামি এবং ভিকটিমদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। বিশেষ করে একজন সাজাপ্রাপ্ত খুনের আসামি জামিনে বা সাজা খেটে বের হয়ে আবারও এই ধরনের জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। ভুক্তভোগী পরিবারটি যেভাবে দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছে এবং পুলিশও যেভাবে তৎপরতা দেখিয়ে রাতেই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, তা প্রশংসনীয়। এখন দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং কঠোর বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের অপরাধীদের মধ্যে আইনের শাসন ও শাস্তির ভয় তৈরি হয়।




















