০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে ২য় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ও শিরশ্ছেদ: আদালতে ঘাতক সোহেলের স্বীকারোক্তি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৫১৩

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি সোহেল রানা আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে নিখোঁজ হলে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সোহেল রানার ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তাঁরা। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই বেরিয়ে আসে বীভৎস দৃশ্য।

খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মস্তকবিহীন ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ।
একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর পাওয়া যায় বিচ্ছিন্ন মাথা।
মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কেটে ফেলা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘরের ভেতর আটকে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে সিটকিনি আটকে দিয়ে সে রামিসাকে জোরপূর্বক ফ্ল্যাটে তুলে আনে। এরপর ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পাশবিকতার একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয়। এই অপরাধে সোহেলের সাথে আরও একজন সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে।

> “স্থানীয়রা যখন ফ্ল্যাটের বাইরে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন সোহেল ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। তবে ঘুম থেকে জেগে ওঠা স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন— সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং একজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী।

আদালতে সোহেল রানা স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেনি পুলিশ। তবে এই ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় বাঁশবাগান থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ পুলিশের

রাজধানীর পল্লবীতে ২য় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণ ও শিরশ্ছেদ: আদালতে ঘাতক সোহেলের স্বীকারোক্তি

আপডেট: ১০:৪৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ প্রকাশ পেয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি সোহেল রানা আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার সকালে সে নিখোঁজ হলে স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত সোহেল রানার ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তাঁরা। প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই বেরিয়ে আসে বীভৎস দৃশ্য।

খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মস্তকবিহীন ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ।
একটি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর পাওয়া যায় বিচ্ছিন্ন মাথা।
মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা কেটে ফেলা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া রিপন জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘরের ভেতর আটকে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে সিটকিনি আটকে দিয়ে সে রামিসাকে জোরপূর্বক ফ্ল্যাটে তুলে আনে। এরপর ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পাশবিকতার একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে হত্যা করা হয়। এই অপরাধে সোহেলের সাথে আরও একজন সহযোগী ছিল বলে জানা গেছে।

> “স্থানীয়রা যখন ফ্ল্যাটের বাইরে জড়ো হচ্ছিলেন, তখন সোহেল ও তার অজ্ঞাতনামা সহযোগী জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। তবে ঘুম থেকে জেগে ওঠা স্ত্রী স্বপ্না আক্তার স্বামীকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই নৃশংস ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন— সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং একজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী।

আদালতে সোহেল রানা স্বেচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেনি পুলিশ। তবে এই ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।