সংসারের অভাব দূর করতে এক দশক আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। স্বপ্ন ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু জীবনের শেষ মুহূর্তে পাশে ছিলেন না কোনো আপনজন। মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় স্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে যশোরের প্রবাসী ফরিদ হোসেনের (৪৫)। মৃত্যুর একদিন পর সহকর্মীরা তার কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত ফরিদ হোসেন যশোর সদর উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আহাদ আলীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে মালয়েশিয়ায় যান ফরিদ। চার বছর আগে একবার দেশে এসেছিলেন তিনি। এরপর আবার বিদেশে ফিরে যান জীবিকার তাগিদে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা ছিল, এবার দেশে ফিরলে আর বিদেশে যাবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জীবিত নয়, তার নিথর দেহই ফিরছে পরিবারের কাছে।
নিহতের ছেলে অপি, যিনি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এর একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী, জানান— মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন তার বাবা। এরপর রাতে একাধিকবার ফোন করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরে ফরিদের সঙ্গে থাকা এক বাংলাদেশি সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তখন তিনি কর্মস্থলে রয়েছেন এবং সকালে গিয়ে খোঁজ নেবেন। পরদিন সকালে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, ফরিদ হোসেন আর বেঁচে নেই।
সহকর্মীদের ভাষ্য, রাতে বা বিকেলের কোনো এক সময় স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়। পরে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, শয়নকক্ষে তার মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয় চিকিৎসকরাও প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফরিদের মৃত্যুর সংবাদ দেশে পৌঁছানোর পর পরিবারজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিহতের স্ত্রী জানান, ঈদের আগেই পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন ফরিদ। সেই টাকা দিয়ে বাবা-মা ও সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দিতে বলেছিলেন তিনি। পরিবারের সবাই যেন ভালোভাবে ঈদ করতে পারে, সে চিন্তাই ছিল তার মাথায়।
বর্তমানে ফরিদ হোসেনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে তার পরিবার।




















