০২:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দালালের খপ্পরে ভারতে পাচার, বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি নারী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৫৩৩

দালালের প্রলোভনে পড়ে সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

ফেরত আসা দুই নারী হলেন বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান এবং একই এলাকার মৃত আলী হোসেন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম।

হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে। পরে ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), কলকাতা তাদের ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ প্রদান করে।

এরপর দুই দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশ, মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই নারী জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দালালের প্রলোভনে পড়ে তারা পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে যান। সেখানে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাদের দমদম কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের কারামুক্ত করে নিজেদের শেল্টার হোমে আশ্রয় দেয়। একই সঙ্গে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার অনুমতি মেলে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যশোরের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ ফেরত আসা নারীদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত দুই নারীকে সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ভাগ্নে ইমন’ আটক

দালালের খপ্পরে ভারতে পাচার, বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি নারী

আপডেট: ০৯:৫৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দালালের প্রলোভনে পড়ে সীমান্তের অবৈধ পথে ভারতে পাচার হওয়া দুই বাংলাদেশি নারীকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে ভারতের হরিদাসপুর চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

ফেরত আসা দুই নারী হলেন বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার খেজুরবাড়িয়া নলবুনিয়া গ্রামের কাঞ্চন হাওলাদারের মেয়ে মারিয়া হাওলাদার ওরফে মারিয়া খান এবং একই এলাকার মৃত আলী হোসেন খানের মেয়ে হ্যাপি খান ওরফে আশা খানম।

হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে। পরে ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও), কলকাতা তাদের ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ প্রদান করে।

এরপর দুই দেশের বিজিবি, বিএসএফ, পুলিশ, মানবাধিকারকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই নারী জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দালালের প্রলোভনে পড়ে তারা পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে ভারতে যান। সেখানে যাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাদের দমদম কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের কারামুক্ত করে নিজেদের শেল্টার হোমে আশ্রয় দেয়। একই সঙ্গে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরার অনুমতি মেলে।

বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের পরিদর্শক সৈয়দ মোর্তজা জানান, ট্রাভেল পারমিটসহ যাবতীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে যশোরের মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ ফেরত আসা নারীদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা না আসা পর্যন্ত দুই নারীকে সংস্থার হেফাজতেই রাখা হবে।