যশোর শহরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ব্যানারে আকস্মিক মিছিল ও সমাবেশের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ‘জয়বাংলা’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত এ মিছিলের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শহরের কাজীপাড়া এলাকার আনসার আলীর ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, একই এলাকার নুরল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মৃত লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন এবং ষষ্টিতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এবং রাতে আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে যশোরে যুবলীগের দুটি পৃথক কর্মসূচি পালনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, যশোর শহরের গরীবশাহ রোড এলাকায় যুবলীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘জয়বাংলা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই পেজে পরে আরও একটি ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে যুবলীগের আরেকটি কর্মসূচির দাবি করা হয়।
ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা জেলা পুলিশের নজরে আসে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামে পুলিশের একাধিক টিম। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান জানান, আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে যুবলীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মিছিলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। একই সঙ্গে মিছিল ও সমাবেশে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের যেকোনো ধরনের গোপন তৎপরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে। যশোরে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।




















