যশোর শহরের রেলগেট আদর্শপাড়ায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবককে বেধড়ক মারধর এবং একটি ভবনের ভেতরে প্রেমিক-প্রেমিকাসহ কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহরের আদর্শপাড়ার ‘স্বরণী ভিলা’ নামে একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাসরত এক শিক্ষার্থী তার প্রেমিককে কক্ষে ডেকে আনেন। বিষয়টি কোনোভাবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতেই ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ওই ভবনে জড়ো হয়। পরে তারা প্রেমিক-প্রেমিকাকে একসঙ্গে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং যুবককে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই যুবকের ভাই শাহারিয়ার হোসেন ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় শাহারিয়ার সেখান থেকে পালিয়ে এসে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে শাহারিয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাই ও ওই তরুণীকে ভবনের ভেতরে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তাদের উদ্ধারে গেলে তাকেও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। এখনও ভবনের ভেতরে তিনজনকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভবনের মালিক মারুফ হোসেন, যিনি বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত, মোবাইল ফোনে জানান—তিনি প্রথমে নিচতলার এক ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মারুফুজ্জামান কাঞ্চন তাকে ফোন করেন। এ সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং ২০-২৫ জন লোক নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করার কথাও জানানো হয়। এমনকি পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তাদের ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা দেখতে পান, ভবনের দ্বিতীয় তলায় হট্টগোল চললেও মূল ফটকে তালা ঝুলছিল। কিছুক্ষণ পর নিচে নেমে আসেন বিএনপি নেতা মারুফুজ্জামান কাঞ্চন। তিনি দাবি করেন, বাড়িটি তার এবং সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ আসার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তবে সাংবাদিকরা দ্বিতীয় তলায় যেতে চাইলে তিনি বাধা দেন এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মমিনুল হক জানান, এমন একটি খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। সেখানে মারুফুজ্জামান কাঞ্চনের সঙ্গে তাদের কথা হয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করছেন বলে জানালে পুলিশ ফিরে আসে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতা ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।




















