যশোরের মনিরামপুরে সৎ বাবার হাতে নিহত আরিফ হোসেন (১৯) হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। একই সঙ্গে নিহত আরিফের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
আটককৃত আসামির নাম মামুন হোসেন। তিনি মনিরামপুর উপজেলার বালিধা গ্রামের খাজা ফকিরের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারা মিয়া তাকে আটক করেন। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি আরিফের সৎ বাবা সোহেল মাহমুদ একজন মাদক কারবারি। আটক মামুন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তারা একসঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে, আরিফ হত্যাকাণ্ডে মামুন সরাসরি অংশ নেন এবং পরে নিহতের মোবাইল ফোনটি নিজের কাছে রেখে দেন।
এর আগে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল মাহমুদ এবং তার সহযোগী ফুয়াদ হাসান ওরফে সৌরভকে আটক করে ডিবি পুলিশ। গত ৪ মার্চ বাগেরহাট জেলার মংলা থানার শেখ আব্দুল হাই সড়কের হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ২ মার্চ ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় আরিফ হোসেনকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি মাছের ঘেরে ফেলে রাখা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘেরের ভেড়ির ওপর রক্তসহ বিভিন্ন আলামত দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন জুলিয়া আক্তার বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার মামুনকে নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট তিনজন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
, হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক সংশ্লিষ্ট বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।





















