০১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত: চিকিৎসক সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনে দুর্ভোগ চরমে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৯

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা যশোরের শার্শা। অথচ এই উপজেলার গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র অত্যন্ত করুণ। চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং জরাজীর্ণ ভবনের কারণে উপজেলার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এখন প্রায় অকার্যকর। ফলে সঠিক চিকিৎসার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষ।
শার্শা উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৬টি সাব-সেন্টার রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।
১১টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৩টিতে মেডিকেল অফিসার নিযুক্ত আছেন। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসক সংকট থাকায়, এই ৩ জনকেও সেখানে সংযুক্ত (ডেপুটেশন) করে রাখা হয়েছে।
উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারও (স্যাকমো) পর্যাপ্ত নেই। ফলে অধিকাংশ সময় কেন্দ্রগুলো তালাবদ্ধ থাকে অথবা নামমাত্র খোলা রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভাঙা এবং ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। জরাজীর্ণ এসব ভবনে চিকিৎসা দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি সরঞ্জামের অভাবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্ভব হচ্ছে না।
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল শার্শা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিদিন হাজার হাজার বন্দর শ্রমিক ও যাত্রী এখানে অবস্থান করলেও বন্দর এলাকায় কোনো সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি প্রয়োজনে শ্রমিক ও স্থানীয়দের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
> “আমরা গরিব মানুষ, সরকারি কেন্দ্রে গেলে ডাক্তার পাই না। বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। ঘরের কাছের হাসপাতালগুলো যদি ঠিক থাকত, তবে আমাদের এই ভোগান্তি হতো না।*
>
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা **ডা. তৌফিক পারভেজ**। তিনি জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক না থাকায় গ্রামীণ পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) **ফজলে ওয়াহিদ** জানিয়েছেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও সরঞ্জাম সংকটের দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল ভবন সংস্কার করলেই হবে না, বরং প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়া রোধে এবং গ্রামীণ মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় বিশাল এই জনগোষ্ঠী আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ঘোষণা

যশোরের শার্শা উপজেলায় গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা বিপর্যস্ত: চিকিৎসক সংকট ও জরাজীর্ণ ভবনে দুর্ভোগ চরমে

আপডেট: ০৯:৩৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা যশোরের শার্শা। অথচ এই উপজেলার গ্রামীণ জনপদের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র অত্যন্ত করুণ। চিকিৎসক সংকট, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব এবং জরাজীর্ণ ভবনের কারণে উপজেলার ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো এখন প্রায় অকার্যকর। ফলে সঠিক চিকিৎসার অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নিম্নবিত্ত ও সাধারণ মানুষ।
শার্শা উপজেলায় ৫টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৬টি সাব-সেন্টার রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এসব কেন্দ্রে চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।
১১টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৩টিতে মেডিকেল অফিসার নিযুক্ত আছেন। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসক সংকট থাকায়, এই ৩ জনকেও সেখানে সংযুক্ত (ডেপুটেশন) করে রাখা হয়েছে।
উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারও (স্যাকমো) পর্যাপ্ত নেই। ফলে অধিকাংশ সময় কেন্দ্রগুলো তালাবদ্ধ থাকে অথবা নামমাত্র খোলা রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কেন্দ্রের দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দরজা-জানালা ভাঙা এবং ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। জরাজীর্ণ এসব ভবনে চিকিৎসা দেওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি সরঞ্জামের অভাবে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাও সম্ভব হচ্ছে না।
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল শার্শা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিদিন হাজার হাজার বন্দর শ্রমিক ও যাত্রী এখানে অবস্থান করলেও বন্দর এলাকায় কোনো সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। ফলে কোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি প্রয়োজনে শ্রমিক ও স্থানীয়দের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।
> “আমরা গরিব মানুষ, সরকারি কেন্দ্রে গেলে ডাক্তার পাই না। বাধ্য হয়ে ধার-দেনা করে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হয়। ঘরের কাছের হাসপাতালগুলো যদি ঠিক থাকত, তবে আমাদের এই ভোগান্তি হতো না।*
>
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা **ডা. তৌফিক পারভেজ**। তিনি জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসক না থাকায় গ্রামীণ পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) **ফজলে ওয়াহিদ** জানিয়েছেন, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও সরঞ্জাম সংকটের দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল ভবন সংস্কার করলেই হবে না, বরং প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়া রোধে এবং গ্রামীণ মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কঠোর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় বিশাল এই জনগোষ্ঠী আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।