রাতভর বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শর্তসাপেক্ষে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই ঐতিহাসিক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছে। একইসাথে ইরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা এসেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি ইরানে দুই সপ্তাহের জন্য বিমান ও বোমা হামলা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই যুদ্ধবিরতির প্রধান শর্ত হিসেবে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, ইরানকে অবিলম্বে এবং সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, ইরান ১০ দফার একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য এই প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক ভিত্তি হিসেবে মনে করছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং বার্তাসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিয়েছে ইরান ও ইসরায়েল উভয় পক্ষই। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবং দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন।
অন্যদিকে, সিএনএন ও ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলও এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা হামলা বন্ধ রাখবে।
যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, “এই ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় নিশ্চিত হলো। এটি মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়।”
বিপরীত দিকে, ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে যে, ট্রাম্প ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মেনে নিয়ে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের মতে, ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কারণে ট্রাম্পকে পিছু হটতে হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মর্যাদাহানিকর।
এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্তিমিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার খবরে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহের এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্ভব হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।




















