০১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

শার্শায় ভোট ডাকাতির চেষ্টাকালে জামায়াত-শিবিরের একদল ক্যাডার আটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫২

যশোরের শার্শার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ভোট শুরুর আগেই ভোটকেন্দ্র দখল ও ‘ভোট ডাকাতি’র চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মানকিয়া গ্রামের একটি কেন্দ্রে হামলা চালাতে গিয়ে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। এ সময় অস্ত্রসহ বেশ কয়েকজন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে হাতেনাতে ধরে গাছের সাথে বেঁধে রাখে উত্তেজিত জনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা নাগাদ মানকিয়া গ্রামের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে সশস্ত্র একদল বহিরাগত লোক অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা জামায়াত ও শিবিরের ক্যাডার। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা ছিল। তারা কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও কেন্দ্রটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকা গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে সাহায্য চান। মাইকিং শুনে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং কেন্দ্রটি চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলেন। জনরোষের মুখে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসী কয়েকজনকে জাপ্টে ধরেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে কেন্দ্রের পাশে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন।
অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান
আটকদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র, শক্ত লাঠি এবং কেন্দ্র দখলের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ধরা পড়া ব্যক্তিরা চিহ্নিত জামায়াত-শিবির ক্যাডার এবং তারা নির্বাচন পণ্ড করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালাতে এসেছিল।
খবর পেয়ে রাতেই বিজিবি ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটককৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং জব্দকৃত অস্ত্রসমূহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ জোরদার করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জামায়াত-শিবিরের এই হামলার চেষ্টার পর এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও সাধারণ ভোটাররা গ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে সাহস ফিরে পেয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে পথসভা ও শুভেচ্ছা মিছিল

শার্শায় ভোট ডাকাতির চেষ্টাকালে জামায়াত-শিবিরের একদল ক্যাডার আটক

আপডেট: ১০:১১:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোরের শার্শার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ভোট শুরুর আগেই ভোটকেন্দ্র দখল ও ‘ভোট ডাকাতি’র চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে মানকিয়া গ্রামের একটি কেন্দ্রে হামলা চালাতে গিয়ে গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা। এ সময় অস্ত্রসহ বেশ কয়েকজন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে হাতেনাতে ধরে গাছের সাথে বেঁধে রাখে উত্তেজিত জনতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা নাগাদ মানকিয়া গ্রামের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে সশস্ত্র একদল বহিরাগত লোক অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারীরা জামায়াত ও শিবিরের ক্যাডার। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র এবং লাঠিসোঁটা ছিল। তারা কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও কেন্দ্রটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়।

ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকা গ্রামবাসী বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত স্থানীয় মসজিদের মাইক থেকে সাহায্য চান। মাইকিং শুনে মুহূর্তের মধ্যে গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং কেন্দ্রটি চারপাশ থেকে ঘেরাও করে ফেলেন। জনরোষের মুখে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করলে গ্রামবাসী কয়েকজনকে জাপ্টে ধরেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দিয়ে কেন্দ্রের পাশে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন।
অস্ত্র উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান
আটকদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র, শক্ত লাঠি এবং কেন্দ্র দখলের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ধরা পড়া ব্যক্তিরা চিহ্নিত জামায়াত-শিবির ক্যাডার এবং তারা নির্বাচন পণ্ড করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালাতে এসেছিল।
খবর পেয়ে রাতেই বিজিবি ও পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটককৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে এবং জব্দকৃত অস্ত্রসমূহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েকগুণ জোরদার করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জামায়াত-শিবিরের এই হামলার চেষ্টার পর এলাকায় থমথমে ভাব থাকলেও সাধারণ ভোটাররা গ্রামবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে সাহস ফিরে পেয়েছেন।