মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নাগরিককে ইরানে ভ্রমণ না করার কড়া পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস, তেহরান এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, ইরান ও আশপাশের অঞ্চলে চলমান অস্থিরতা, আকাশপথে অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নাগরিক যেন ইরানে ভ্রমণ না করেন—চাই তা আকাশপথে হোক বা স্থলপথে। ([The Economic Times][1])
বর্তমানে যারা ইরানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশত্যাগ করতে বলা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় দূতাবাসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে নিরাপদে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।
বিশেষভাবে বলা হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকদের নির্ধারিত স্থল সীমান্ত পথ ব্যবহার করে ইরান ত্যাগ করতে হবে। দূতাবাসের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকে অগ্রসর না হওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। ([Rediff][2])
যদিও ইরানের সঙ্গে সীমিত আকারে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে, তবুও আকাশসীমায় বিধিনিষেধ এবং ফ্লাইট পরিচালনায় অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভারত সরকার জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ কারণে তেহরানে ভারতীয় দূতাবাস একাধিক জরুরি হেল্পলাইন নম্বর ও ইমেইল সেবা চালু করেছে, যাতে প্রয়োজনে ভারতীয়রা দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন। ([Rediff][3])
এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও ভারত সরকার ইরানে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করে দ্রুত দেশত্যাগের পরামর্শ দিয়েছিল। সর্বশেষ পরিস্থিতির অবনতি এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার জেরে সেই সতর্কতা আরও কঠোর করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ইরান ভ্রমণে ভারতের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস




















