০৬:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুর সরকারি কলেজে হামলা-ভাঙচুর: শিক্ষিকাকে জুতাপেটা, বিএনপি নেতা আকবর আলী বহিষ্কার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১২

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভাঙচুর, শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটার ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত আকবর আলী দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে, যখন দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এ ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। একপর্যায়ে আগের অধ্যক্ষের সময়কার কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা এবং অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কলেজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। গুরুতর আহত কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে এসে বিভিন্ন অজুহাতে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক সুবিধা আদায়। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনিও হামলার শিকার হন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আকবর আলী দাবি করেছেন, কলেজের আগের সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এ বিষয়ে আপস না করায় তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

দুর্গাপুর থানা-র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক কলেজে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর শিক্ষাঙ্গনে নেমে এসেছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহল দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবার হামে শিশুমৃত্যু

রাজশাহীর দুর্গাপুর সরকারি কলেজে হামলা-ভাঙচুর: শিক্ষিকাকে জুতাপেটা, বিএনপি নেতা আকবর আলী বহিষ্কার

আপডেট: ০৪:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভাঙচুর, শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং এক শিক্ষিকাকে জুতাপেটার ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতা আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত আকবর আলী দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ছিলেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে, যখন দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ-এ ২০২৪ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ মোতায়েন ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। একপর্যায়ে আগের অধ্যক্ষের সময়কার কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে মারধর করা হয়।

এর কিছুক্ষণ পর একদল লোক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা এবং অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কলেজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। গুরুতর আহত কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে।

প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে এসে বিভিন্ন অজুহাতে চাপ সৃষ্টি করছিলেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আর্থিক সুবিধা আদায়। অধ্যক্ষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনিও হামলার শিকার হন।

অন্যদিকে অভিযুক্ত আকবর আলী দাবি করেছেন, কলেজের আগের সময়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির হিসাব চাইতে গেলে উল্টো তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, চার মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি এ বিষয়ে আপস না করায় তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে।

দুর্গাপুর থানা-র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় পুলিশ আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক কলেজে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ঘটনার পর শিক্ষাঙ্গনে নেমে এসেছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সচেতন মহল দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।