০৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ফিরিয়ে আনতে নতুন আইন আসছে: যশোরে আইনমন্ত্রীর ঘোষণা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩

যশোরে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের বিচার বিভাগ সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন হলেও সুপ্রিম কোর্ট তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিচার বিভাগের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে যাওয়ায় জনগণের আস্থা কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
শুক্রবার যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন এবং জুলাই সনদ আইন। তিনি জানান, এসব আইন সংসদে উপস্থাপনের আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট বা অনৈতিক বিচার ব্যবস্থা মেনে নেবে না। বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি রোধে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের কিছু বিষয় নিয়েও বিতর্ক আছে। তবে এসব বিষয়ে জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ১৯৭১ কিংবা সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে বিভক্ত না হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলার ঘটনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সরকারের এই অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যশোরের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে পুনরায় সক্রিয় ও আরও কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও জানান, যাতে আইনজীবীদের কল্যাণ ও বিচারসেবার মান আরও উন্নত করা যায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিচার বিভাগ, আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে আইনমন্ত্রী যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত বহুতল ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি ঐতিহাসিক জেলা জজ ও দায়রা জজের পরিত্যক্ত ভবন পরিদর্শন করেন এবং ভবনটি সংস্কারের আশ্বাস দেন।

সর্বাধিক পঠিত

চুয়াডাঙ্গায় প্রথমবার হামে শিশুমৃত্যু

বিচার বিভাগের স্বকীয়তা ফিরিয়ে আনতে নতুন আইন আসছে: যশোরে আইনমন্ত্রীর ঘোষণা

আপডেট: ০৪:৪৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের বিচার বিভাগ সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন হলেও সুপ্রিম কোর্ট তার নিজস্ব স্বকীয়তা ও মর্যাদা ধরে রাখতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিচার বিভাগের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে যাওয়ায় জনগণের আস্থা কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
শুক্রবার যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সঞ্চালনা করেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সরকার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন, গুম কমিশন আইন এবং জুলাই সনদ আইন। তিনি জানান, এসব আইন সংসদে উপস্থাপনের আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার কোনোভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট বা অনৈতিক বিচার ব্যবস্থা মেনে নেবে না। বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি রোধে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের কিছু বিষয় নিয়েও বিতর্ক আছে। তবে এসব বিষয়ে জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ১৯৭১ কিংবা সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে বিভক্ত না হয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দেশে ক্রসফায়ার, গুম ও মিথ্যা মামলার ঘটনা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সরকারের এই অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যশোরের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী যশোর কোর্টকে পুনরায় সক্রিয় ও আরও কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও জানান, যাতে আইনজীবীদের কল্যাণ ও বিচারসেবার মান আরও উন্নত করা যায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা জজ মাহমুদা খানম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিচার বিভাগ, আইন অঙ্গন ও রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

এর আগে আইনমন্ত্রী যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত বহুতল ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি ঐতিহাসিক জেলা জজ ও দায়রা জজের পরিত্যক্ত ভবন পরিদর্শন করেন এবং ভবনটি সংস্কারের আশ্বাস দেন।