০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

চৌগাছায় হাটের ইজারা নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারা কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান লেন্টু পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় তিনি চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারা তিনি গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫০ টাকায় লাভ করেন।
ইজারা পাওয়ার পরপরই একটি প্রভাবশালী চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্র তার ওপর এবং তার নিয়োজিত কর্মচারীদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। শুধু তাই নয়, হাটে খাজনা আদায়ে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ এপ্রিল থেকে অভিযুক্তরা হাটের কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে লেন্টুর নিযুক্ত খাজনা আদায়কারী আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম মাছ বাজারে খাজনা আদায়ের কাজে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেয়। এ সময় তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে রশিদ বই ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে বাজার এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান লেন্টুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা তার পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন স্থানে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে চৌগাছা উপজেলার মো. শুকুর আলী (৪৫), সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান (৫০), মো. আব্দুর রহিম (৫২), মো. মাসুদ (৪০), মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পূর্বের ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরেই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন নেতানিয়াহু,

চৌগাছায় হাটের ইজারা নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

আপডেট: ০৭:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারা কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান লেন্টু পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় তিনি চৌগাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারা তিনি গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫০ টাকায় লাভ করেন।
ইজারা পাওয়ার পরপরই একটি প্রভাবশালী চক্র তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু তিনি চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্র তার ওপর এবং তার নিয়োজিত কর্মচারীদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। শুধু তাই নয়, হাটে খাজনা আদায়ে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ এপ্রিল থেকে অভিযুক্তরা হাটের কাঁচাবাজার, মাছ বাজার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রায় এক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে লেন্টুর নিযুক্ত খাজনা আদায়কারী আরিফুল ইসলাম ওয়াসিম মাছ বাজারে খাজনা আদায়ের কাজে গেলে অভিযুক্তরা তাকে বাধা দেয়। এ সময় তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে রশিদ বই ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে বাজার এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এ সময় ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান লেন্টুকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা তার পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন স্থানে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে চৌগাছা উপজেলার মো. শুকুর আলী (৪৫), সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান (৫০), মো. আব্দুর রহিম (৫২), মো. মাসুদ (৪০), মো. উজ্জ্বল হোসেন (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পূর্বের ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরেই আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল মনে করছেন, হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ঘটনা বাজার ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।