০৮:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কানাডার ভিসার নামে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বাগেরহাটে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫১

বাগেরহাটে জামায়াতে ইসলামীর এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কানাডার ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন খোদ জামায়াত কর্মী আব্দুল মতিন বাদশা।
অভিযুক্ত শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বাগেরহাট জেলা জামায়াতের যুব শাখার সভাপতি এবং আগামী নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের আব্দুল মতিন বাদশা বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলা ও হয়রানি থেকে বাঁচতে তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময় তিনি সদর উপজেলার কাড়পাড়া ইউনিয়নের সোহাগ সিকদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে জেলা জামায়াত নেতার একান্ত সহকারী সাইফুল চৌধুরীর পরামর্শে আরও ১১ জনকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, “আমি বিশ্বাস করেছিলাম দলীয় পরিচয় ও নেতাদের অবগতিতে হওয়া কাজে প্রতারণার সুযোগ নেই। সেই বিশ্বাস থেকে আমরা ১১ জন মিলে সর্বমোট ৩৪ লাখ টাকা প্রদান করি।”

আব্দুল মতিন বাদশার দাবি, পুরো অর্থ লেনদেনের বিষয়টি মঞ্জুরুল হক রাহাদের উপস্থিতিতে ও অবগতিতে হয়েছে। এমনকি সর্বশেষ কিস্তির ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরাসরি রাহাদের হাতে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তাদের ‘ভুয়া বা জাল ভিসা’ প্রদান করে প্রতারিত করা হয়।

ভুক্তভোগী এই জামায়াত কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “টাকা ফেরত পেতে আমি মঞ্জুরুল হক রাহাদের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমার ভাগ্নে মুজাহিদুল ইসলামের বাবা আবুল কালাম আজাদ টাকা হারিয়ে মানসিক চাপে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এখন মৃত্যুশয্যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ইনসাফ ও আদর্শের আশায় জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব। দলীয় শৃঙ্খলার কথা ভেবে এতদিন চুপ থাকলেও এখন বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে পথসভা ও শুভেচ্ছা মিছিল

কানাডার ভিসার নামে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ: বাগেরহাটে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৮:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগেরহাটে জামায়াতে ইসলামীর এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কানাডার ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন খোদ জামায়াত কর্মী আব্দুল মতিন বাদশা।
অভিযুক্ত শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বাগেরহাট জেলা জামায়াতের যুব শাখার সভাপতি এবং আগামী নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের আব্দুল মতিন বাদশা বলেন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলা ও হয়রানি থেকে বাঁচতে তিনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সময় তিনি সদর উপজেলার কাড়পাড়া ইউনিয়নের সোহাগ সিকদার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে জেলা জামায়াত নেতার একান্ত সহকারী সাইফুল চৌধুরীর পরামর্শে আরও ১১ জনকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, “আমি বিশ্বাস করেছিলাম দলীয় পরিচয় ও নেতাদের অবগতিতে হওয়া কাজে প্রতারণার সুযোগ নেই। সেই বিশ্বাস থেকে আমরা ১১ জন মিলে সর্বমোট ৩৪ লাখ টাকা প্রদান করি।”

আব্দুল মতিন বাদশার দাবি, পুরো অর্থ লেনদেনের বিষয়টি মঞ্জুরুল হক রাহাদের উপস্থিতিতে ও অবগতিতে হয়েছে। এমনকি সর্বশেষ কিস্তির ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা সরাসরি রাহাদের হাতে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে তাদের ‘ভুয়া বা জাল ভিসা’ প্রদান করে প্রতারিত করা হয়।

ভুক্তভোগী এই জামায়াত কর্মী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “টাকা ফেরত পেতে আমি মঞ্জুরুল হক রাহাদের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমার ভাগ্নে মুজাহিদুল ইসলামের বাবা আবুল কালাম আজাদ টাকা হারিয়ে মানসিক চাপে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এখন মৃত্যুশয্যায়।”
তিনি আরও বলেন, “ইনসাফ ও আদর্শের আশায় জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব। দলীয় শৃঙ্খলার কথা ভেবে এতদিন চুপ থাকলেও এখন বাধ্য হয়ে গণমাধ্যমের শরণাপন্ন হয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।