১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘উদ্ভাবক মিজান’ নামে কয়েদির আত্মহত্যা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬৮৫

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘উদ্ভাবক’ হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান (মিজান) নামে এক কয়েদির আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কারাগারের অভ্যন্তরে একটি কক্ষে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
মিজানুর রহমান ছিলেন যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ওয়ার্কশপ মেকানিক হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ যানবাহনসহ নানা উদ্ভাবনী যন্ত্র তৈরি করে ‘উদ্ভাবক মিজান’ নামে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
যেভাবে ঘটলো ঘটনা
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মিজানুর রহমান কারাগারের কার্পেট চালির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানেই তিনি গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। কর্তব্যরত কারারক্ষীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, মিজানুর রহমান কপোতাক্ষ-৩ ভবনে অবস্থান করছিলেন। তিনি কৌশলে কার্পেট চালির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এই ঘটনা ঘটান। ঘটনার পর তার পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং স্বজনেরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
কারাবাসের পটভূমি
কারাগার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ জুলাই শ্যালক হত্যা মামলায় আদালত উদ্ভাবক মিজানুর রহমানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রায় ২১ বছর আগে যশোরের বেনাপোলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স হত্যার ঘটনায় এই রায় দেওয়া হয়েছিল। নিহত প্রিন্স ছিলেন মিজানুর রহমানের আপন ভগ্নিপতি।
হতাশা থেকে আত্মহত্যার ধারণা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের মামলার রায় এবং যাবজ্জীবন কারাবাসজনিত হতাশা থেকেই উদ্ভাবক মিজান আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

হাই-টেক পার্কে অনিয়মের অভিযোগ, বদলির পরও শফিকের যোগদান নিয়ে প্রশ্ন

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘উদ্ভাবক মিজান’ নামে কয়েদির আত্মহত্যা

আপডেট: ১০:৪২:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘উদ্ভাবক’ হিসেবে পরিচিত মিজানুর রহমান (মিজান) নামে এক কয়েদির আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কারাগারের অভ্যন্তরে একটি কক্ষে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে কারা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
মিজানুর রহমান ছিলেন যশোরের শার্শা উপজেলার আমতলা গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ওয়ার্কশপ মেকানিক হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ যানবাহনসহ নানা উদ্ভাবনী যন্ত্র তৈরি করে ‘উদ্ভাবক মিজান’ নামে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
যেভাবে ঘটলো ঘটনা
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে মিজানুর রহমান কারাগারের কার্পেট চালির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানেই তিনি গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। কর্তব্যরত কারারক্ষীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, মিজানুর রহমান কপোতাক্ষ-৩ ভবনে অবস্থান করছিলেন। তিনি কৌশলে কার্পেট চালির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এই ঘটনা ঘটান। ঘটনার পর তার পরিবারকে জানানো হয়েছে এবং স্বজনেরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
কারাবাসের পটভূমি
কারাগার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৪ জুলাই শ্যালক হত্যা মামলায় আদালত উদ্ভাবক মিজানুর রহমানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। প্রায় ২১ বছর আগে যশোরের বেনাপোলে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সুজায়েতুজ্জামান প্রিন্স হত্যার ঘটনায় এই রায় দেওয়া হয়েছিল। নিহত প্রিন্স ছিলেন মিজানুর রহমানের আপন ভগ্নিপতি।
হতাশা থেকে আত্মহত্যার ধারণা
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের মামলার রায় এবং যাবজ্জীবন কারাবাসজনিত হতাশা থেকেই উদ্ভাবক মিজান আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।