০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুবলীগ নেতা রাধুনী হাবিবের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগ, দুদকে আবেদন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

রাজনীতি ও ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অর্থ বৈধ করার একটি চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের আলোচিত যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান ওরফে ‘রাধুনী হাবিবের’ বিরুদ্ধে। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও অবৈধ অর্থের মালিকদের টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন গাজীপুরের বাসন এলাকার বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান।

দুদকে দেওয়া আবেদনে মুস্তাফিজুর রহমান রাধুনী হাবিবের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব তুলে ধরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, তুলনামূলক অল্প সময়ে হাবিবুর রহমান অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগে তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে গাজীপুরের মাজুখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা বাড়ি, বোর্ড বাজারে আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা বাড়ি এবং সোনিয়া গার্মেন্টসের পাশে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি টিনশেড বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বোর্ড বাজারের ‘বাংলার রাধুনী’ রেস্তোরাঁর সম্পত্তি ও জামানতসহ মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং বর্তমানে ‘অ্যারাবিয়ান রেস্তোরাঁ’ নামে পরিচালিত ‘লবঙ্গ রেস্তোরাঁ’র সম্পত্তি ও জামানতসহ মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগ, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় গত ছয় বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বিক্রি হলেও এর বিপরীতে অর্জিত প্রকৃত আয় আয়কর বিভাগ ও সরকারের কাছে গোপন করা হয়েছে। একইভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলার রাধুনী রেস্তোরাঁর বাফেট ও পার্টি সেন্টার থেকে অর্জিত আয় ও ভ্যাটের হিসাব গোপন করে সরকারকে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, রাধুনী হাবিব কর ফাঁকির পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও মাদক কারবারিদের অবৈধ অর্থ নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করার প্রক্রিয়ায় জড়িত।

দুদকে আবেদন জমা পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা হাবিবুর রহমানের সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ব্যাংক হিসাব এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের দাবি করেছে।

তবে রাধুনী হাবিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল ছাড়া সম্পদের পরিমাণ, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সর্বাধিক পঠিত

সাজা ও সাময়িক বরখাস্তের পরও পদোন্নতি, যশোর বিআরটিএর এডি জমির হোসেনকে ঘিরে প্রশ্ন

যুবলীগ নেতা রাধুনী হাবিবের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগ, দুদকে আবেদন

আপডেট: ০৮:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতি ও ব্যবসার আড়ালে অবৈধ অর্থ বৈধ করার একটি চক্র গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের আলোচিত যুবলীগ নেতা হাবিবুর রহমান ওরফে ‘রাধুনী হাবিবের’ বিরুদ্ধে। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও অবৈধ অর্থের মালিকদের টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত আবেদন করেছেন গাজীপুরের বাসন এলাকার বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান।

দুদকে দেওয়া আবেদনে মুস্তাফিজুর রহমান রাধুনী হাবিবের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব তুলে ধরেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, তুলনামূলক অল্প সময়ে হাবিবুর রহমান অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হয়েছেন।

অভিযোগে তার উল্লেখযোগ্য সম্পদের মধ্যে গাজীপুরের মাজুখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা বাড়ি, বোর্ড বাজারে আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের চারতলা বাড়ি এবং সোনিয়া গার্মেন্টসের পাশে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি টিনশেড বাড়ির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বোর্ড বাজারের ‘বাংলার রাধুনী’ রেস্তোরাঁর সম্পত্তি ও জামানতসহ মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং বর্তমানে ‘অ্যারাবিয়ান রেস্তোরাঁ’ নামে পরিচালিত ‘লবঙ্গ রেস্তোরাঁ’র সম্পত্তি ও জামানতসহ মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীর অভিযোগ, রেস্তোরাঁ ব্যবসায় গত ছয় বছরে প্রায় ১৮ কোটি টাকা বিক্রি হলেও এর বিপরীতে অর্জিত প্রকৃত আয় আয়কর বিভাগ ও সরকারের কাছে গোপন করা হয়েছে। একইভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলার রাধুনী রেস্তোরাঁর বাফেট ও পার্টি সেন্টার থেকে অর্জিত আয় ও ভ্যাটের হিসাব গোপন করে সরকারকে বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, রাধুনী হাবিব কর ফাঁকির পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা ও মাদক কারবারিদের অবৈধ অর্থ নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করার প্রক্রিয়ায় জড়িত।

দুদকে আবেদন জমা পড়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা হাবিবুর রহমানের সম্পদের উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ব্যাংক হিসাব এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের দাবি করেছে।

তবে রাধুনী হাবিবের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ফলাফল ছাড়া সম্পদের পরিমাণ, কর ফাঁকি বা অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।