০৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ছুরিকাঘাত ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ: ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি সাইফুলের বিরুদ্ধে তদন্তে জেলা যুবদল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৫৫

যশোরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম করা এবং টাকা ও স্বর্ণের গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওয়ার্ড যুবদল সভাপতিসহ নয়জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর এবার দলীয়ভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে জেলা যুবদল।
অভিযুক্ত সাইফুল রামনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং বলাডাঙ্গা শ্রীকান্তনগর গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৭ অক্টোবর রাতে বলাডাঙ্গা গোবিন্দ মোড়ে নাইমুল হোসেন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত ও তার মায়ের কাছ থেকে গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি হয়।
মামলার অভিযোগ ও আসামি
বলাডাঙ্গা গ্রামের আকরাম হোসেনের স্ত্রী রেবেকা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন: নজরুল মোল্লা, আরিফুল ইসলাম, ইসমাইল, সিহাব, ইমরান, ইমন, নয়ন ও আশিক। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। যা বলছেন বাদী
বাদী রেবেকা খাতুনের অভিযোগ, তার ছেলে নাইমুল হোসেন একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অন্যদিকে আসামিরা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। নাইমুল এসব কাজে বাধা দেওয়ায় তাদের সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত ২৭ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে নাইমুল বলাডাঙ্গা গোবিন্দ মোড়ে বসে থাকার সময় সাইফুলসহ অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, সাইফুল নাইমুলকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে, এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার পকেটে থাকা ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
রেবেকা খাতুন ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয় এবং তার গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
দলীয় তদন্তের নির্দেশ
রেবেকা খাতুন জানান, তার ছেলে নাইমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাইফুলসহ তার সহযোগীরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ নিয়ে দলীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, মামলা করার পর সাইফুল নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। বাধ্য হয়ে রেবেকা খাতুন শুক্রবার রাতে জেলা বিএনপির পার্টি অফিসে যান। সেখানে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা যুবদলকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবার যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়, চালক-সহকারী উদ্ধার

ছুরিকাঘাত ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ: ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি সাইফুলের বিরুদ্ধে তদন্তে জেলা যুবদল

আপডেট: ০৪:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

যশোরে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে জখম করা এবং টাকা ও স্বর্ণের গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ওয়ার্ড যুবদল সভাপতিসহ নয়জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর এবার দলীয়ভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে জেলা যুবদল।
অভিযুক্ত সাইফুল রামনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি এবং বলাডাঙ্গা শ্রীকান্তনগর গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৭ অক্টোবর রাতে বলাডাঙ্গা গোবিন্দ মোড়ে নাইমুল হোসেন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত ও তার মায়ের কাছ থেকে গহনা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি হয়।
মামলার অভিযোগ ও আসামি
বলাডাঙ্গা গ্রামের আকরাম হোসেনের স্ত্রী রেবেকা খাতুন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। মামলার প্রধান আসামি সাইফুল ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন: নজরুল মোল্লা, আরিফুল ইসলাম, ইসমাইল, সিহাব, ইমরান, ইমন, নয়ন ও আশিক। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। যা বলছেন বাদী
বাদী রেবেকা খাতুনের অভিযোগ, তার ছেলে নাইমুল হোসেন একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। অন্যদিকে আসামিরা মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। নাইমুল এসব কাজে বাধা দেওয়ায় তাদের সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত ২৭ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে নাইমুল বলাডাঙ্গা গোবিন্দ মোড়ে বসে থাকার সময় সাইফুলসহ অন্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগে বলা হয়, সাইফুল নাইমুলকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে, এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার পকেটে থাকা ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
রেবেকা খাতুন ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে আহত করা হয় এবং তার গলা থেকে সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
দলীয় তদন্তের নির্দেশ
রেবেকা খাতুন জানান, তার ছেলে নাইমুল হোসেন ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাইফুলসহ তার সহযোগীরা নানাভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এ নিয়ে দলীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি পাঠানো হয়।
তিনি আরও জানান, মামলা করার পর সাইফুল নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। বাধ্য হয়ে রেবেকা খাতুন শুক্রবার রাতে জেলা বিএনপির পার্টি অফিসে যান। সেখানে খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা যুবদলকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।