যশোর সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন তুহিনের দুই ছেলে রাতিন ও রোহান এখনও পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোর শহরের আশ্রম রোডে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
* এর আগে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে একই এলাকার একটি ভাঙড়ির দোকানে সিটি কলেজের ছাত্রদল কর্মী আদরকে মারধর করেন অভিযুক্ত রাতিন ও তার সহযোগীরা।
* খবর পেয়ে ছাত্রদল সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান ঘটনাস্থলে এসে মারধরের কারণ জানতে চান।
* এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ সময় যুবলীগ নেতা তুহিন তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেন, এবং তার দুই ছেলে রাতিন ও রোহান ধারালো অস্ত্র দিয়ে সোহানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।
* গুরুতর আহত অবস্থায় সোহানকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
* হামলাকারীরা সোহানের মোবাইল ফোন এবং সঙ্গে থাকা নগদ ৪১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩
আহত সোহানের পক্ষে যশোর সিটি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মিজান চৌধুরী কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যুবলীগ নেতা কামাল হোসেন তুহিন, তার দুই ছেলে রাতিন ও রোহানসহ মোট নয়জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ হালদার জানান, এই মামলায় এখন পর্যন্ত আশ্রম রোডের মইন, তার স্ত্রী সাথী টুনু এবং পুলেরহাট এলাকার শেখ পিয়াসকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
ছাত্রদলের বিক্ষোভ ও আল্টিমেটাম
ছাত্রদল নেতার উপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতে যশোর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হাসপাতালে গিয়ে আহত সোহানকে দেখতে যান।
তিনি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বলেন, “যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর ছুরি চালায়, তারা গণতন্ত্রের শত্রু—তাদের আইনের আওতায় আনতেই হবে।”
ছাত্রদল হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলাকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত তুহিন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ রয়েছে।




















