১২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গা অপহরণ: যশোরের খামারবাড়ি থেকে ৫ জন উদ্ধার, ৩ জন গ্রেপ্তার;

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৯০

স্বর্ণ চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে অপহৃত পাঁচজনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার একটি খামারবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এবং বিশেষ টিমের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ কর্মকর্তারা।
⛓️ যেভাবে ঘটেছিল অপহরণ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জীবননগরের গোয়ালপাড়া (মাঠপাড়া) গ্রামের হাজারী মন্ডলের ছেলে শওকত আলী ২১ অক্টোবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বর্ণ চোরাচালান ও আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে তার ছেলেসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়।
গত ১২ অক্টোবর ও ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন সময়ে অপহৃত হন:
* শফিকুল ইসলাম (৩৫)
* আনারুল ইসলাম (৫০)
* হাসান মিয়া (২৬)
* আবুল হোসেন (২৭)
* স্বপন ইসলাম (৪৪)
এই অপহরণের ঘটনায় আব্দুল মজিদ, মিজানুর রহমান রুবেল, লালন মন্ডল, আব্দুস সামাদ, বিপ্লব হোসেন ও শাহীনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
🏠 যশোর থেকে উদ্ধার ও শারীরিক নির্যাতন
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের ও সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীরের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের কুল্লা গ্রামের রেজাউল ইসলামের খামারবাড়ি থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিল্লাল হোসেন (৪০), মোছা. সাগরিকা খাতুন (২৮) ও বিকাশ দেবনাথ (৩০)-কে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও খামারের মালিক রেজাউল ইসলাম ও সহযোগী আব্দুল গফ্ফার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
🔪 নির্যাতনের ভয়াবহতা
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ১১ অক্টোবর সকালে বগার মাঠের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় স্বর্ণ পাচারকারী শফিকুল ইসলামের কাছে থাকা ৫০ পিস স্বর্ণের বার নিখোঁজ হয়। স্বর্ণের মালিকপক্ষ এই ঘটনার জের ধরে শফিকুলসহ অন্যদের অপহরণ করে ওই খামারবাড়িতে বন্দি করে রাখে।
উদ্ধারকৃত অপহৃতদের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পুলিশ আরও জানায়, নির্যাতনের সময় অপহৃত শফিকুল ইসলামের চারটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে।
অপহৃতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবার যাত্রীবাহী বাস পদ্মায়, চালক-সহকারী উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা অপহরণ: যশোরের খামারবাড়ি থেকে ৫ জন উদ্ধার, ৩ জন গ্রেপ্তার;

আপডেট: ১০:৫০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

স্বর্ণ চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে অপহৃত পাঁচজনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার একটি খামারবাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ অক্টোবর) সকালে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ, ডিবি, সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল এবং বিশেষ টিমের যৌথ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ কর্মকর্তারা।
⛓️ যেভাবে ঘটেছিল অপহরণ
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জীবননগরের গোয়ালপাড়া (মাঠপাড়া) গ্রামের হাজারী মন্ডলের ছেলে শওকত আলী ২১ অক্টোবর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, স্বর্ণ চোরাচালান ও আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে তার ছেলেসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়।
গত ১২ অক্টোবর ও ১৩ অক্টোবর বিভিন্ন সময়ে অপহৃত হন:
* শফিকুল ইসলাম (৩৫)
* আনারুল ইসলাম (৫০)
* হাসান মিয়া (২৬)
* আবুল হোসেন (২৭)
* স্বপন ইসলাম (৪৪)
এই অপহরণের ঘটনায় আব্দুল মজিদ, মিজানুর রহমান রুবেল, লালন মন্ডল, আব্দুস সামাদ, বিপ্লব হোসেন ও শাহীনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
🏠 যশোর থেকে উদ্ধার ও শারীরিক নির্যাতন
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের ও সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীরের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের কুল্লা গ্রামের রেজাউল ইসলামের খামারবাড়ি থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিল্লাল হোসেন (৪০), মোছা. সাগরিকা খাতুন (২৮) ও বিকাশ দেবনাথ (৩০)-কে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও খামারের মালিক রেজাউল ইসলাম ও সহযোগী আব্দুল গফ্ফার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
🔪 নির্যাতনের ভয়াবহতা
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ১১ অক্টোবর সকালে বগার মাঠের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় স্বর্ণ পাচারকারী শফিকুল ইসলামের কাছে থাকা ৫০ পিস স্বর্ণের বার নিখোঁজ হয়। স্বর্ণের মালিকপক্ষ এই ঘটনার জের ধরে শফিকুলসহ অন্যদের অপহরণ করে ওই খামারবাড়িতে বন্দি করে রাখে।
উদ্ধারকৃত অপহৃতদের ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পুলিশ আরও জানায়, নির্যাতনের সময় অপহৃত শফিকুল ইসলামের চারটি আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে।
অপহৃতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।