১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫৪

বেনাপোল প্রতিনিধি:
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি এক সমাবেশে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনাই প্রথম তার পিতার সঙ্গে বেইমানি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেনাপোল দিঘিরপাড় ঈদগাহ ময়দানে এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকার শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় সেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘বাকশাল’ বিলুপ্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বাকশাল ছাড়া দেশে আর কোনো দল থাকবে না এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়।
তৃপ্তি প্রশ্ন তুলে বলেন:
> “তাহলে সেই বাকশালকে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা তার পিতার গড়া বাকশালকে বিলুপ্তি ঘোষণা করে আবার আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করল। তাহলে বলতে হয় শেখ হাসিনাই তার পিতার সাথে প্রথম বেইমানি করেছিল।”
>
সিরাজ সিকদার হত্যা: শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার দাবি
ভাষণের এক পর্যায়ে মফিকুল হাসান তৃপ্তি বামপন্থী নেতা সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও ফাঁসি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সিরাজ সিকদার ছিলেন একজন মেধাবী ও শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতা। শেখ মুজিবের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে গ্রেফতারের পর পাঁচ পাঁচটি গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর পবিত্র জাতীয় সংসদে শেখ মুজিব ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বক্তব্য দেন, “সিরাজ সিকদাররা কোথায়।”
তৃপ্তি বলেন:
> “জাতীয় সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও ফাঁসি হওয়া উচিত… দেশপ্রেমিক সর্বত্যাগী নেতাকে বন্দী অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করল। এই জঘন্য অন্যায় কলঙ্কের কথা পবিত্র পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কী করে তিনি দম্ভের সাথে বলতে পারল?”
>
🗣️ নিজের রাজনীতি, অত্যাচার ও অঙ্গীকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করা মফিকুল হাসান তৃপ্তি জানান, তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না হয়েও তার এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি অনেক বেকার ছেলে-মেয়েকে সরকারি চাকরি পেতে সহযোগিতা করেছেন, বিনিময়ে কোনো অর্থ নেননি।
তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সঠিক ভাবে বিগত ১৫ টি বছর রাজনীতি করার সুযোগ পায়নি। আমাদের খুন গুম করার সুযোগ খুজেছে ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকার। আমাকে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে ওই ফ্যাসিবাদি হাসিনা সরকার।”
তিনি অঙ্গীকার করেন, তিনি এমপি নির্বাচিত হলে মামলা-হামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াবেন এবং সরকারের আমলে সীমান্ত এলাকায় বেড়ে যাওয়া মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
👥 সমাবেশে উপচে পড়া ভিড়
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজ উদ্দিন তাজ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সাহাদুর রহমান খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমদাদুল হক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন বাবলু সহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও মহিলা নেত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

সর্বাধিক পঠিত

সুন্দরবনে দস্যুতা ও বন্যপ্রাণী শিকার: মোরেলগঞ্জে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক ১

আপডেট: ০৬:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বেনাপোল প্রতিনিধি:
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি এক সমাবেশে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেছেন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনাই প্রথম তার পিতার সঙ্গে বেইমানি করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেনাপোল দিঘিরপাড় ঈদগাহ ময়দানে এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকার শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় সেখানে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘বাকশাল’ বিলুপ্তি ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ
সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব প্রেসিডেন্ট থাকাকালে সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বাকশাল ছাড়া দেশে আর কোনো দল থাকবে না এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত চারটি বাদে সকল সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা হয়।
তৃপ্তি প্রশ্ন তুলে বলেন:
> “তাহলে সেই বাকশালকে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা তার পিতার গড়া বাকশালকে বিলুপ্তি ঘোষণা করে আবার আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করল। তাহলে বলতে হয় শেখ হাসিনাই তার পিতার সাথে প্রথম বেইমানি করেছিল।”
>
সিরাজ সিকদার হত্যা: শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার দাবি
ভাষণের এক পর্যায়ে মফিকুল হাসান তৃপ্তি বামপন্থী নেতা সিরাজ সিকদারের হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের মরণোত্তর বিচার ও ফাঁসি দাবি করেন।
তিনি বলেন, সিরাজ সিকদার ছিলেন একজন মেধাবী ও শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতা। শেখ মুজিবের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে গ্রেফতারের পর পাঁচ পাঁচটি গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর পবিত্র জাতীয় সংসদে শেখ মুজিব ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বক্তব্য দেন, “সিরাজ সিকদাররা কোথায়।”
তৃপ্তি বলেন:
> “জাতীয় সংসদে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া শেখ মুজিবের মরণোত্তর বিচার ও ফাঁসি হওয়া উচিত… দেশপ্রেমিক সর্বত্যাগী নেতাকে বন্দী অবস্থায় বিনা বিচারে গুলি করে হত্যা করল। এই জঘন্য অন্যায় কলঙ্কের কথা পবিত্র পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কী করে তিনি দম্ভের সাথে বলতে পারল?”
>
🗣️ নিজের রাজনীতি, অত্যাচার ও অঙ্গীকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করা মফিকুল হাসান তৃপ্তি জানান, তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না হয়েও তার এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি অনেক বেকার ছেলে-মেয়েকে সরকারি চাকরি পেতে সহযোগিতা করেছেন, বিনিময়ে কোনো অর্থ নেননি।
তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “আমরা সঠিক ভাবে বিগত ১৫ টি বছর রাজনীতি করার সুযোগ পায়নি। আমাদের খুন গুম করার সুযোগ খুজেছে ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকার। আমাকে মিথ্যা হত্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে ওই ফ্যাসিবাদি হাসিনা সরকার।”
তিনি অঙ্গীকার করেন, তিনি এমপি নির্বাচিত হলে মামলা-হামলার শিকার নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াবেন এবং সরকারের আমলে সীমান্ত এলাকায় বেড়ে যাওয়া মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।
👥 সমাবেশে উপচে পড়া ভিড়
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক তাজ উদ্দিন তাজ, আইন বিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি সাহাদুর রহমান খোকন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেরুল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমদাদুল হক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন বাবলু সহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও মহিলা নেত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।