১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

নারীদের জন্য তারেক রহমানের পাঁচ দফা পরিকল্পনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৫১

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্মজীবী মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর জামায়াত আমিরের ঘোষণার পরপরই নারীদের জন্য দলের পাঁচ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপি দেশজুড়ে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে, যাতে শিশু পরিচর্যা (চাইল্ডকেয়ার) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হয়।
আজ, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর), নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন।
মূল বক্তব্য ও লক্ষ্য
তারেক রহমান বলেন, যখন কোনো তরুণী মা পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন, অথবা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করে দেন, তখন বাংলাদেশ হারায় সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা এবং অগ্রগতি।
বিএনপির লক্ষ্য: একটি আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ গড়া, যেখানে কোনো নারীকে তার পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে না হয়।
📊 অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম— পুরুষদের ৮০ শতাংশের বিপরীতে নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ কর্মজীবী। তিনি মনে করেন, এই ব্যবধান জাতির অর্ধেকেরও বেশি মেধা ও দক্ষতাকে পিছনে ফেলে রাখছে।
তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাবনা
বিএনপি সারাদেশে শিশু পরিচর্যাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশলের অংশ করার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পাঁচ দফা উদ্যোগ বিবেচনা করছে:
* সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
* সরকারি অফিসগুলোতে ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ।
* বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা।
* শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর (CSR) ক্রেডিট প্রদান।
* নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।
📈 সম্ভাব্য সুবিধা ও গুরুত্ব
তারেক রহমানের মতে, এই একটি সংস্কার নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে স্থিতিশীলতা দিতে এবং জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে।
* তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
* তিনি আইএফসি ও আইএলও-এর গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা রয়েছে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম, এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যেই খরচ তুলে আনতে পারে।
🚀 ভবিষ্যতের স্বপ্ন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মতে, শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অপরিহার্য অংশ। তাঁর দৃষ্টিতে, “সড়ক যেমন বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।”
তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য: ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, গর্বের সঙ্গে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
তিনি নারীর সম্ভাবনা সীমাবদ্ধকারী যেকোনো পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “শিশু পরিচর্যা, সমান মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায়সংগত নয়— এটিই বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতি।”

সর্বাধিক পঠিত

সুন্দরবনে দস্যুতা ও বন্যপ্রাণী শিকার: মোরেলগঞ্জে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক ১

নারীদের জন্য তারেক রহমানের পাঁচ দফা পরিকল্পনা

আপডেট: ০৫:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্মজীবী মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর জামায়াত আমিরের ঘোষণার পরপরই নারীদের জন্য দলের পাঁচ দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপি দেশজুড়ে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে, যাতে শিশু পরিচর্যা (চাইল্ডকেয়ার) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কৌশলের অংশ হয়।
আজ, বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর), নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান এই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন।
মূল বক্তব্য ও লক্ষ্য
তারেক রহমান বলেন, যখন কোনো তরুণী মা পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দেন, অথবা কোনো ছাত্রী পড়াশোনা বন্ধ করে দেন, তখন বাংলাদেশ হারায় সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা এবং অগ্রগতি।
বিএনপির লক্ষ্য: একটি আধুনিক, গণমুখী বাংলাদেশ গড়া, যেখানে কোনো নারীকে তার পরিবার ও ভবিষ্যতের মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে না হয়।
📊 অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পুরুষদের তুলনায় নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম— পুরুষদের ৮০ শতাংশের বিপরীতে নারীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ কর্মজীবী। তিনি মনে করেন, এই ব্যবধান জাতির অর্ধেকেরও বেশি মেধা ও দক্ষতাকে পিছনে ফেলে রাখছে।
তারেক রহমানের পাঁচ দফা প্রস্তাবনা
বিএনপি সারাদেশে শিশু পরিচর্যাকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কৌশলের অংশ করার লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পাঁচ দফা উদ্যোগ বিবেচনা করছে:
* সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন।
* সরকারি অফিসগুলোতে ধাপে ধাপে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ।
* বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থা।
* শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর (CSR) ক্রেডিট প্রদান।
* নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান অনুযায়ী কেয়ারগিভারদের প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশন প্রদান।
📈 সম্ভাব্য সুবিধা ও গুরুত্ব
তারেক রহমানের মতে, এই একটি সংস্কার নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি করতে, ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে স্থিতিশীলতা দিতে এবং জিডিপিতে ১ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে।
* তৈরি পোশাক শিল্পে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় কর্মজীবী মায়েদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়।
* তিনি আইএফসি ও আইএলও-এর গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যেসব কারখানায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা রয়েছে, সেখানে কর্মী ধরে রাখার হার বেশি, অনুপস্থিতি কম, এবং প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের মধ্যেই খরচ তুলে আনতে পারে।
🚀 ভবিষ্যতের স্বপ্ন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মতে, শিশু পরিচর্যা কোনো দয়া-দাক্ষিণ্য নয়, এটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অপরিহার্য অংশ। তাঁর দৃষ্টিতে, “সড়ক যেমন বাজারকে সংযুক্ত করে, তেমনি ডে-কেয়ার সেন্টার নারীদের কর্মজীবনে সাফল্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।”
তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য: ২০৩৪ সালের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন-ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিক, বিশেষ করে নারী, গর্বের সঙ্গে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
তিনি নারীর সম্ভাবনা সীমাবদ্ধকারী যেকোনো পশ্চাৎমুখী ধারণা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “শিশু পরিচর্যা, সমান মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায়সংগত নয়— এটিই বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতি।”