যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে যশোরে। অমাবস্যার নিশীথকালে প্রচলিত পূজাবিধি অনুযায়ী দেবী কালীর আরাধনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা।
শ্যামাপূজা উপলক্ষে মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে পূজার্চনা, মন্ত্রপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও আরতির আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রথা ও উপাসনাপদ্ধতি অনুযায়ী পূজার আনুষ্ঠানিকতায় কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও সব আয়োজন ঘিরেই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
এদিকে শ্যামাপূজাকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের বেজপাড়া শ্রীধর পুকুরপাড়ে এবার পাঁচ দিনব্যাপী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় পূজা কমিটির উদ্যোগে মিয়ানমারের বিখ্যাত ‘সুই তাও মিয়াত প্যাগোডা’র আদলে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ৬০ ফুট উচ্চতার দৃষ্টিনন্দন পূজামণ্ডপ। আয়োজকদের তত্ত্বাবধানে ৮ নভেম্বর থেকে এ উৎসব শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
উৎসব উপলক্ষে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি বর্ণিল আলোকসজ্জা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্যতিক্রমী নকশার এই মণ্ডপ দেখতে দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
এ ছাড়া যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন, নীলগঞ্জ মহাশ্মশান মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, বেজপাড়াসহ বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে শ্যামাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।
শ্যামাপূজার পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দীপাবলিরও রয়েছে বিশেষ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। সংস্কৃত ‘দীপাবলি’ শব্দের অর্থ প্রদীপের সারি। অন্ধকার দূর করে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক হিসেবে এ উৎসবে ঘরবাড়ি, মন্দির ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে প্রদীপ, মোমবাতি এবং আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়।
বাংলার শাক্ত ঐতিহ্যে দীপাবলির সময় শ্যামাপূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস, পারিবারিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক লোকাচারের সমন্বয়ে ভূত চতুর্দশী, শ্যামাপূজা ও দীপাবলি বাঙালি হিন্দু সমাজের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
অশুভের পরিবর্তে শুভবোধ প্রতিষ্ঠা, অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে চলা এবং মানুষের কল্যাণ কামনার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর এসব উৎসব উদ্যাপিত হয়। এবারও শ্যামাপূজা ও দীপাবলিকে ঘিরে যশোরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।




















