১২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যশোরে ১৫ টাকা কেজির সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারের কাগজপত্র জব্দ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০২

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে। অক্টোবর মাসে উপকারভোগীদের নির্ধারিত চাল বিতরণ না করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে অক্টোবর মাসে উপকারভোগীদের বরাদ্দের চাল যথাযথভাবে বিতরণ না করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া নির্ধারিত ডিলার পয়েন্ট ও গুদাম বিজয়নগরে থাকার কথা থাকলেও তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রথমে বিজয়নগরে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে ডিলার পয়েন্ট পাওয়া যায়নি। পরে ডিলার শামীম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিলার পয়েন্ট খয়েরতলা বাজার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এরপর অভিযানকারী দল খয়েরতলা পুরাতন স্টেশনের পাশে অবস্থিত ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেখানে ডিলারের উপস্থিতিতে কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন কর্মকর্তারা। এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী অক্টোবর মাসের চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। চাল বিতরণসংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। পরে ডিলারের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ডিলার পয়েন্ট বিজয়নগরে থাকার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে খয়েরতলা পুরাতন স্টেশনের পাশে ডিলার পয়েন্টের সন্ধান পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ডিলারের উপস্থিতিতে কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে চাল বিতরণে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন সরাসরি চাল না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে ডিলারের কাগজপত্র জব্দ করা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার শামীম হোসেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই ডিলার পয়েন্ট স্থানান্তর করেছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শামীম হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দের চাল অন্যত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে চাল বিক্রির অভিযোগের কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি এবং পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

ঝিকরগাছায় একাধিক মামলার আসামি ‘ব্যাকা কামরুল’ আটক

যশোরে ১৫ টাকা কেজির সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারের কাগজপত্র জব্দ

আপডেট: ১১:১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে। অক্টোবর মাসে উপকারভোগীদের নির্ধারিত চাল বিতরণ না করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে অক্টোবর মাসে উপকারভোগীদের বরাদ্দের চাল যথাযথভাবে বিতরণ না করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া নির্ধারিত ডিলার পয়েন্ট ও গুদাম বিজয়নগরে থাকার কথা থাকলেও তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বৃহস্পতিবার অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রথমে বিজয়নগরে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে ডিলার পয়েন্ট পাওয়া যায়নি। পরে ডিলার শামীম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিলার পয়েন্ট খয়েরতলা বাজার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এরপর অভিযানকারী দল খয়েরতলা পুরাতন স্টেশনের পাশে অবস্থিত ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেখানে ডিলারের উপস্থিতিতে কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন কর্মকর্তারা। এ সময় কয়েকজন উপকারভোগী অক্টোবর মাসের চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেন। চাল বিতরণসংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। পরে ডিলারের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী ডিলার পয়েন্ট বিজয়নগরে থাকার কথা থাকলেও সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে খয়েরতলা পুরাতন স্টেশনের পাশে ডিলার পয়েন্টের সন্ধান পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, ডিলারের উপস্থিতিতে কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে চাল বিতরণে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকজন সরাসরি চাল না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে ডিলারের কাগজপত্র জব্দ করা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার শামীম হোসেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই ডিলার পয়েন্ট স্থানান্তর করেছেন। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।

শামীম হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দের চাল অন্যত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে চাল বিক্রির অভিযোগের কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি এবং পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।