০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

যশোর থেকে সকালে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৭

পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল–যশোর–ঢাকা ও দর্শনা–যশোর–ঢাকা রুটে সকালে প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ বেড়েছে। তবে বেনাপোল–যশোর–ঢাকা রুটে বিকেলে ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীরা রাজধানীতে দাপ্তরিক কাজ শেষ করে একই দিনে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষও এ রেলপথে পর্যাপ্ত যাতায়াত সুবিধা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির নেতারা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সকালে ঢাকাগামী ট্রেন চালু করা জরুরি। এতে যাত্রীরা একই দিনে ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল–যশোর–ঢাকা ও দর্শনা–যশোর–ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু, ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ, আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন এবং কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনের উপযোগী বগির ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া সাধারণ শ্রেণির ট্রেনভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা, অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটির মতে, ট্রেনে ফুল, ফল, সবজি ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি যুক্ত করা হলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী ভাড়া ও সহজে টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের রেলযাত্রা আরও সহজ হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব দাবি নিয়ে এর আগেও রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবিগুলোর যৌক্তিকতাও তুলে ধরা হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের পরিবহন সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে দাবিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর থেকে সকালে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবি

যশোর থেকে সকালে ঢাকা যাওয়ার ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবি

আপডেট: ০৫:০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল–যশোর–ঢাকা ও দর্শনা–যশোর–ঢাকা রুটে সকালে প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর জন্য যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক কাওসার আলী ও সদস্যসচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু রেল প্রকল্প চালুর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের সুযোগ বেড়েছে। তবে বেনাপোল–যশোর–ঢাকা রুটে বিকেলে ট্রেন চলাচল করায় যাত্রীরা রাজধানীতে দাপ্তরিক কাজ শেষ করে একই দিনে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে, দর্শনা, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ এলাকার মানুষও এ রেলপথে পর্যাপ্ত যাতায়াত সুবিধা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির নেতারা জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে সকালে ঢাকাগামী ট্রেন চালু করা জরুরি। এতে যাত্রীরা একই দিনে ঢাকায় প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি সময় ও যাতায়াত ব্যয় কমবে।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বর্তমান ট্রেনের সময়সূচি বহাল রেখে বেনাপোল–যশোর–ঢাকা ও দর্শনা–যশোর–ঢাকা রুটে প্রভাতী এক্সপ্রেস চালু, ঢাকা ও খুলনায় প্রতিদিন যাতায়াত করে অফিস করার উপযোগী সময়সূচি নির্ধারণ, আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ শ্রেণির বগি সংযোজন এবং কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনের উপযোগী বগির ব্যবস্থা করা।

এ ছাড়া সাধারণ শ্রেণির ট্রেনভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা, অনলাইন নিবন্ধনের বাইরে টিকিট সংগ্রহের বিকল্প ব্যবস্থা চালু এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকিটপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্মারকলিপিতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল রেললাইন নির্মাণের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটির মতে, ট্রেনে ফুল, ফল, সবজি ও মাছসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী বগি যুক্ত করা হলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে সাশ্রয়ী ভাড়া ও সহজে টিকিট পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের রেলযাত্রা আরও সহজ হবে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব দাবি নিয়ে এর আগেও রেল উপদেষ্টা ও রেল সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দাবিগুলোর যৌক্তিকতাও তুলে ধরা হয়েছে।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা এবং দীর্ঘদিনের পরিবহন সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে দাবিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।