০১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী শাকিলের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৮

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় মোছা. স্নিগ্ধা পারভীন (৩৩) নামে এক নারী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত কারারক্ষীর নাম মো. শাকিল মিয়া (৩৫)। তিনি রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়ার বাসিন্দা স্নিগ্ধা পারভীনের সঙ্গে কারারক্ষী শাকিল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২৩ সালে স্নিগ্ধা পারভীনের ভাগিনা মো. ডলারকে (২৪) কারারক্ষী পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন শাকিল—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভাগিনার চাকরির আশায় বিশ্বাস করে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে নগদ ১৪ লাখ টাকা শাকিলের হাতে তুলে দেন বলে দাবি করেন স্নিগ্ধা পারভীন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ডলারের চাকরি হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার।

লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন কেল্লাবন্দ এলাকার মেডিনোভা ক্লিনিকের পেছনে শাকিলের ভাড়াবাসার সামনে টাকা ফেরত চান স্নিগ্ধা পারভীন।

এ সময় শাকিল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁদের মারধরের জন্য তেড়ে আসার অভিযোগও করেন স্নিগ্ধা পারভীন।

ঘটনাটি কেল্লাবন্দ এলাকার সামছুল ইসলামের বাড়ির গেটের সামনে ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির সাংবাদিক মো. রিফাত হোসেন বাধনসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক মো. রিফাত হোসেন বাধন বলেন, ঘটনাটি সত্য। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

### ভুক্তভোগীর দাবি, চান টাকা ফেরত ও বিচার

স্নিগ্ধা পারভীনের অভিযোগ, একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়েও শাকিল তাঁদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে টাকা নিয়েছেন। এখন টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, পাওনা টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে কারারক্ষী শাকিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। টাকা লেনদেনের ভিডিও থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় টাকা লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ভিডিওর সত্যতা এবং অভিযোগের অন্যান্য দিক নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্সের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানান তিনি।

ঘটনাটি ঘিরে সরকারি চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং অর্থ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পেনশন বিভাগে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী শাকিলের বিরুদ্ধে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: ১১:১৮:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় মোছা. স্নিগ্ধা পারভীন (৩৩) নামে এক নারী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত কারারক্ষীর নাম মো. শাকিল মিয়া (৩৫)। তিনি রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর মহানগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সর্দারপাড়ার বাসিন্দা স্নিগ্ধা পারভীনের সঙ্গে কারারক্ষী শাকিল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২৩ সালে স্নিগ্ধা পারভীনের ভাগিনা মো. ডলারকে (২৪) কারারক্ষী পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন শাকিল—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভাগিনার চাকরির আশায় বিশ্বাস করে ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে নগদ ১৪ লাখ টাকা শাকিলের হাতে তুলে দেন বলে দাবি করেন স্নিগ্ধা পারভীন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ডলারের চাকরি হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে ভুক্তভোগী পরিবার।

লিখিত অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন কেল্লাবন্দ এলাকার মেডিনোভা ক্লিনিকের পেছনে শাকিলের ভাড়াবাসার সামনে টাকা ফেরত চান স্নিগ্ধা পারভীন।

এ সময় শাকিল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁদের মারধরের জন্য তেড়ে আসার অভিযোগও করেন স্নিগ্ধা পারভীন।

ঘটনাটি কেল্লাবন্দ এলাকার সামছুল ইসলামের বাড়ির গেটের সামনে ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভির সাংবাদিক মো. রিফাত হোসেন বাধনসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিক মো. রিফাত হোসেন বাধন বলেন, ঘটনাটি সত্য। চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও মারধরের চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

তবে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন।

### ভুক্তভোগীর দাবি, চান টাকা ফেরত ও বিচার

স্নিগ্ধা পারভীনের অভিযোগ, একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়েও শাকিল তাঁদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে টাকা নিয়েছেন। এখন টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, পাওনা টাকা ফেরত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে কারারক্ষী শাকিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। টাকা লেনদেনের ভিডিও থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় টাকা লেনদেনের প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ভিডিওর সত্যতা এবং অভিযোগের অন্যান্য দিক নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি।

এ বিষয়ে রংপুর বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্সের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথাও জানান তিনি।

ঘটনাটি ঘিরে সরকারি চাকরির নামে প্রতারণার অভিযোগ এবং অর্থ ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও দায় নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।