সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সার্জেন্ট সরদার মুহিবের বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক সিএনজিচালিত অটোরিকশার ব্যবসা পরিচালনা এবং এ ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির বিধিবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর মালিকানায় বা নিয়ন্ত্রণে ২০ থেকে ২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানার ধরন এবং ব্যবসার বৈধতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গত ২২ অক্টোবর রাতে রাজধানীর টিটিপাড়া মোড়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগের নিয়মিত তল্লাশিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটক হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-দ-১১-১১৬০। এতে ‘সরদার পরিবহন’ লেখা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে টিটিপাড়া মোড়ে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ অটোরিকশাটিকে থামিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় চালক খোকন গাড়িটির প্রকৃত মালিক হিসেবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সার্জেন্ট সরদার মুহিবের নাম উল্লেখ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটির মূল কাগজপত্র মুহিবের কাছে রয়েছে।
পরে ট্রাফিক পুলিশ অটোরিকশাটি আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গাড়িটি আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের অবস্থা এবং এ বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকায় ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত থাকার সময় সরদার মুহিব প্রায় ২০ থেকে ২৫টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনা শুরু করেন। বর্তমানে এসব গাড়ি তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি সিএনজির মূল্য ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধরা হলে ২০ থেকে ২৫টি গাড়ির মোট আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে এই হিসাব সম্পদের স্বাধীন মূল্যায়ন নয়। গাড়িগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য, নিবন্ধন, রুট পারমিট, মালিকানা এবং দায়দেনার তথ্য যাচাই ছাড়া সম্পদের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
একজন সরকারি কর্মকর্তার নামে বা নিয়ন্ত্রণে এতগুলো বাণিজ্যিক যানবাহন থাকার অভিযোগ সামনে আসায় তাঁর আয়, বিনিয়োগের উৎস এবং ব্যবসা পরিচালনার আইনগত ভিত্তি খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।




















