০২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে জহির ফকির (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

নিহত জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহিরের স্থায়ী বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো চাপাতি দিয়ে জহিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোবারক হোসেন ও তাঁর লোকজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তাঁর দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জহির। একই পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন মোবারক হোসেনও। এ নিয়ে মোবারক শুরু থেকেই জহিরকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ইসমাইল।

তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।’

আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহির তাঁদের দলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁকে হত্যা করেছে বলে তিনি জানান। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সোনারগাঁয়ে সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় যুবদল নেতা, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতা জহির ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

আপডেট: ১০:৩৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে জহির ফকির (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

নিহত জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি এবং আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহিরের স্থায়ী বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তাঁর একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো চাপাতি দিয়ে জহিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোবারক হোসেন ও তাঁর লোকজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তাঁর দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন জহির। একই পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন মোবারক হোসেনও। এ নিয়ে মোবারক শুরু থেকেই জহিরকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ইসমাইল।

তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি এর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাই।’

আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহির তাঁদের দলের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাঁকে হত্যা করেছে বলে তিনি জানান। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।