, বেনাপোল প্রতিনিধি: দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি পণ্য বের করে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে উচ্চ শুল্কযুক্ত শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকসসহ দুই ট্রাক পণ্য শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই বের করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার নেতৃত্বে তদন্ত, গবেষণা ও ব্যবস্থাপনা ইউনিটের (আইআরএম) একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে অনুপস্থিত পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।
পরবর্তী সময়ে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকার কারণ জানতে চাইলে আরমান সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে সূত্রটি দাবি করেছে। এ সময় যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিনের বিরুদ্ধে আরমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আরমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে ২টার মধ্যে বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে দুটি কাভার্ড ভ্যানে করে আমদানি পণ্য বের করে নেওয়া হয়। গাড়ি দুটি হলো ঢাকা ট্রান্সপোর্টের ঢাকা মেট্রো-ট-২২-৭৪৭১ এবং আফজাল পার্সেলের ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-০৮৪৭।
পণ্য চালানগুলোতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা পণ্য ছিল এবং শুল্ক পরিশোধ না করেই সেগুলো বের করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সূত্রটির আরও দাবি, ঘটনার পর শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত একটি চক্র যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিনকে বদলি করানোর চেষ্টা করছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেনাপোল বন্দরের ৪১ নম্বর শেডে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা কয়েক কোটি টাকা মূল্যের পণ্য চালান জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত আট মাসে এই শেড থেকে মিথ্যা ঘোষণা ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে কত পরিমাণ পণ্য বের করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে জব্দ করা পণ্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, শুল্কের অঙ্ক এবং তদন্তের আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস সূত্রের বরাতে জানা যায়, চলতি বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের তিন ট্রাক পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বের করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ওই ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ও তরিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এদিকে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমানের নির্দেশনায় শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে জানা গেছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন ভূমিকা রাখছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) রহুল আমিন জানান, ২৯ নম্বর শেডের ঘটনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্বে থাকা শেড ইনচার্জ রিপন বিশ্বাস ও শফিককে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বেনাপোল স্থলবন্দরে শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য পাচারের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। এসব ঘটনায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
তাঁদের দাবি, শুল্ক ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরের ওপর ব্যবসায়ী মহলের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




















