০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালনির্ভর সেবা ও অনিয়মের অভিযোগ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে দালালনির্ভরতা, অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। এসব অভিযোগের মধ্যে কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

সেবাপ্রার্থীদের কয়েকজনের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার পরও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের চাপ অনুভব করতে হয়।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট আবেদন নম্বর, অর্থ লেনদেনের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর ব্যাপ্তি ও সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের কয়েকজনের দাবি, সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, বাজারমূল্য, অর্থের উৎস কিংবা বৈধতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

তবে ওই অভিযানে কী পাওয়া গিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে কোনো অনুসন্ধান বা মামলা হয়েছে কি না এবং বর্তমান অভিযোগগুলোর সঙ্গে অভিযানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে আগে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, এসব পদক্ষেপের পরও সেবাপ্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালাল নেই এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

তবে তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে কয়েকজন সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে সরকারি ফি জমার রসিদ, আবেদন নিষ্পত্তির সময়, সেবাগ্রহীতাদের সাক্ষ্য এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি।

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দালালনির্ভরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সেবার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি কার্যালয়ে স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। আবেদন গ্রহণ থেকে সনদ প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুসরণযোগ্য করা গেলে অযৌক্তিক বিলম্ব ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই পারে সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে।

সর্বাধিক পঠিত

মাদকমুক্ত ও আদর্শ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যশোর সদর উপজেলার সিলুমপুর গ্রামে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালনির্ভর সেবা ও অনিয়মের অভিযোগ,

আপডেট: ০৩:৪৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে দালালনির্ভরতা, অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। এসব অভিযোগের মধ্যে কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাওয়া যায়নি।

সেবাপ্রার্থীদের কয়েকজনের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করার পরও দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে সেবা গ্রহণের চাপ অনুভব করতে হয়।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট আবেদন নম্বর, অর্থ লেনদেনের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর ব্যাপ্তি ও সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগকারীদের কয়েকজনের দাবি, সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে তাঁর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদ থাকার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

তবে এসব সম্পদের মালিকানা, বাজারমূল্য, অর্থের উৎস কিংবা বৈধতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সম্পত্তির দলিল, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।

তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

তবে ওই অভিযানে কী পাওয়া গিয়েছিল, পরবর্তী সময়ে কোনো অনুসন্ধান বা মামলা হয়েছে কি না এবং বর্তমান অভিযোগগুলোর সঙ্গে অভিযানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে আগে অনিয়ম ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী। তাঁদের দাবি, এসব পদক্ষেপের পরও সেবাপ্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি দাবি করেন, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালাল নেই এবং এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

তবে তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে কয়েকজন সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করতে সরকারি ফি জমার রসিদ, আবেদন নিষ্পত্তির সময়, সেবাগ্রহীতাদের সাক্ষ্য এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করা জরুরি।

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়কে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দালালনির্ভরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে সেবার নির্ধারিত ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা এবং অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি কার্যালয়ে স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা। আবেদন গ্রহণ থেকে সনদ প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থায় অনুসরণযোগ্য করা গেলে অযৌক্তিক বিলম্ব ও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের সুযোগ কমতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্র যাচাই এবং সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ জরুরি। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণই পারে সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে।