০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য, তবে পাওয়া নিয়ে সংশয়ে ট্রাম্প

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য তিনি—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নোবেল কমিটি এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা তাঁর জানা নেই। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, নোবেল কমিটির এমন একটি ‘সুনাম’ রয়েছে, যার কারণে তাঁর মতো ব্যক্তিদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না। আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এখন পুরস্কার ঘোষণার সময় এসেছে। এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাচাদো।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা বারবার তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন। এসব উদ্যোগের জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য বলে মনে করেন তিনি।

কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, যেসব সংঘাত নিরসনে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন ট্রাম্প, সেগুলোর কয়েকটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও তাঁর দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও এখনো পূরণ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও।
?

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকসহ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার, তা জানা যাবে নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বাধিক পঠিত

মাদকমুক্ত ও আদর্শ সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যশোর সদর উপজেলার সিলুমপুর গ্রামে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য, তবে পাওয়া নিয়ে সংশয়ে ট্রাম্প

আপডেট: ১১:৫৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য তিনি—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার শেষ পর্যন্ত তাঁর ঝুলিতে উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নোবেল কমিটি এবার কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা তাঁর জানা নেই। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, নোবেল কমিটির এমন একটি ‘সুনাম’ রয়েছে, যার কারণে তাঁর মতো ব্যক্তিদের হয়তো তারা পুরস্কার দিতে চায় না। আগামী শুক্রবার ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, এখন পুরস্কার ঘোষণার সময় এসেছে। এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের পুরস্কারের পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাচাদো।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে নিজের ভূমিকার কথা বারবার তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি আটটি সংঘাতে হস্তক্ষেপ করেছেন। এসব উদ্যোগের জন্যই নোবেল শান্তি পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য বলে মনে করেন তিনি।

কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এসব মনোনয়নের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, যেসব সংঘাত নিরসনে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন ট্রাম্প, সেগুলোর কয়েকটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও তাঁর দাবিকে ঘিরে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতিও এখনো পূরণ করতে পারেননি ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই এই যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

এদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপরও।
?

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকসহ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার, তা জানা যাবে নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর।

সূত্র: রয়টার্স