০৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

জনতা ব্যাংকে ২৬৬ কোটি টাকার বোনাস-লাঞ্চ সুবিধা, অডিটে বড় অনিয়মের আপত্তি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকটে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তাদের বোনাস ও লাঞ্চ সাবসিডির নামে ২৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব ব্যয়কে নিয়মবহির্ভূত ও আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং সরকারি চাকরি আদেশ-২০১৫ উপেক্ষা করে কর্মকর্তাদের এসব আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৩ দশমিক ৭৫ গুণ হারে উৎসব ও উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়। এতে ব্যাংকের তহবিল থেকে মোট ১৫৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৪ টাকা ব্যয় হয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বোনাস দেওয়ার অনুকূলে ছিল না। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং বিপুল প্রভিশন ঘাটতির কারণে ব্যাংকটি প্রকৃতপক্ষে লোকসানে ছিল। তারপরও কাগজে-কলমে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা মুনাফা দেখিয়ে বোনাস দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালে জনতা ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ২১ হাজার ১৮১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করতে পেরেছিল ৫ হাজার ৮৩৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৩৪৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, একই সময়ে ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ২০২২ সালের ১৫ হাজার ৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ২৪ হাজার ৮৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যায়ন স্কোর ন্যূনতম ৫০ হওয়ার কথা থাকলেও জনতা ব্যাংকের স্কোর ছিল ৩৫। ফলে নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা ছিল না।

অডিট দল বোনাস বাবদ বিতরণ করা অর্থকে বেআইনি ও অনাদায়ি আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তা আদায় করে ব্যাংকের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

অডিট প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য দেওয়া লাঞ্চ সাবসিডি নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে। এ খাতে ব্যাংকের ব্যয় হয়েছে ১১৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ টাকা।

সরকারি চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ-২০১৫ অনুযায়ী, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য দৈনিক লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়ার বিধান নেই বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা দল মনে করছে, সরকারি বিধি ও আদেশ অমান্য করে পরিচালনা পর্ষদ এ ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করতে পারে না। ফলে লাঞ্চ সাবসিডির পুরো ব্যয়কে নিয়মবহির্ভূত ও অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে জনতা ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭২ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণ ছাড়িয়ে যায় ৭৫ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা।

২০২৫ সালের নিরীক্ষিত হিসাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। একই সময়ে নিট লোকসান ছিল ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুনে মূলধন ঘাটতিও ৫০ হাজার ১৬০ কোটি টাকায় পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিট আপত্তির বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান বলেন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই বোনাস ও লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সুবিধা চালু রয়েছে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও এর প্রচলন আছে বলে তিনি দাবি করেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও কর্মউদ্দীপনা ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যাংকের উন্নয়ন কার্যক্রমে উৎসাহিত করতেই ২০২৩ সালের জন্য ৩ দশমিক ৭৫ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছিল।

লাঞ্চ সাবসিডির বিষয়ে ব্যাংকের দাবি, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

‘সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, অডিটে উত্থাপিত অনিয়মগুলো বর্তমান সময়ের আগের ঘটনা। এখন যাতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রভিশন ঘাটতি থাকা অবস্থায় কীভাবে বোনাস দেওয়া হয়েছে এবং কী যুক্তিতে লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা জনতা ব্যাংককেই দিতে হবে। অডিট আপত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বোনাস ও ভাতা দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনগণের অর্থের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। অন্য ব্যাংকেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়—এমন যুক্তি কোনো অনিয়মকে বৈধতা দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে মার্কিন দূতাবাসের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল

জনতা ব্যাংকে ২৬৬ কোটি টাকার বোনাস-লাঞ্চ সুবিধা, অডিটে বড় অনিয়মের আপত্তি

আপডেট: ০৫:২৫:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন সংকটে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তাদের বোনাস ও লাঞ্চ সাবসিডির নামে ২৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি অর্থ বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব ব্যয়কে নিয়মবহির্ভূত ও আর্থিক অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মহাহিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ের বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং সরকারি চাকরি আদেশ-২০১৫ উপেক্ষা করে কর্মকর্তাদের এসব আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৩ দশমিক ৭৫ গুণ হারে উৎসব ও উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়। এতে ব্যাংকের তহবিল থেকে মোট ১৫৩ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৪ টাকা ব্যয় হয়েছে।

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা বোনাস দেওয়ার অনুকূলে ছিল না। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া এবং বিপুল প্রভিশন ঘাটতির কারণে ব্যাংকটি প্রকৃতপক্ষে লোকসানে ছিল। তারপরও কাগজে-কলমে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা মুনাফা দেখিয়ে বোনাস দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালে জনতা ব্যাংকের প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন ছিল ২১ হাজার ১৮১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকটি সংরক্ষণ করতে পেরেছিল ৫ হাজার ৮৩৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৩৪৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, একই সময়ে ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ২০২২ সালের ১৫ হাজার ৭৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ২৪ হাজার ৮৯৬ কোটি ২৮ লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত মূল্যায়ন স্কোর ন্যূনতম ৫০ হওয়ার কথা থাকলেও জনতা ব্যাংকের স্কোর ছিল ৩৫। ফলে নিয়ম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বোনাস পাওয়ার যোগ্যতা ছিল না।

অডিট দল বোনাস বাবদ বিতরণ করা অর্থকে বেআইনি ও অনাদায়ি আর্থিক ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তা আদায় করে ব্যাংকের কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

অডিট প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য দেওয়া লাঞ্চ সাবসিডি নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে। এ খাতে ব্যাংকের ব্যয় হয়েছে ১১৩ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৭ টাকা।

সরকারি চাকরি (ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ-২০১৫ অনুযায়ী, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসিক ২০০ টাকা টিফিন ভাতা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু ২য় থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য দৈনিক লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়ার বিধান নেই বলে অডিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষা দল মনে করছে, সরকারি বিধি ও আদেশ অমান্য করে পরিচালনা পর্ষদ এ ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করতে পারে না। ফলে লাঞ্চ সাবসিডির পুরো ব্যয়কে নিয়মবহির্ভূত ও অপচয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতির কারণে জনতা ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭২ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা এবং ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণ ছাড়িয়ে যায় ৭৫ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা।

২০২৫ সালের নিরীক্ষিত হিসাবে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৫৫ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা। একই সময়ে নিট লোকসান ছিল ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুনে মূলধন ঘাটতিও ৫০ হাজার ১৬০ কোটি টাকায় পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অডিট আপত্তির বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান বলেন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়েই বোনাস ও লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সুবিধা চালু রয়েছে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও এর প্রচলন আছে বলে তিনি দাবি করেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও কর্মউদ্দীপনা ধরে রাখার পাশাপাশি ব্যাংকের উন্নয়ন কার্যক্রমে উৎসাহিত করতেই ২০২৩ সালের জন্য ৩ দশমিক ৭৫ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ বোনাস দেওয়া হয়েছিল।

লাঞ্চ সাবসিডির বিষয়ে ব্যাংকের দাবি, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

‘সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে বোনাস দেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, অডিটে উত্থাপিত অনিয়মগুলো বর্তমান সময়ের আগের ঘটনা। এখন যাতে এ ধরনের অনিয়ম আর না ঘটে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রভিশন ঘাটতি থাকা অবস্থায় কীভাবে বোনাস দেওয়া হয়েছে এবং কী যুক্তিতে লাঞ্চ সাবসিডি দেওয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যা জনতা ব্যাংককেই দিতে হবে। অডিট আপত্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বোনাস ও ভাতা দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জনগণের অর্থের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। অন্য ব্যাংকেও একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হয়—এমন যুক্তি কোনো অনিয়মকে বৈধতা দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।