০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

বকেয়া দেনমোহর স্ত্রী দাবি করলেই দিতে হবে: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১০

বিয়ের সময় নির্ধারিত কিন্তু বকেয়া থাকা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করা মাত্রই পরিশোধ করতে হবে—এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

দেনমোহর-সংক্রান্ত একটি সিভিল রিভিশন মামলার নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, কোনো স্বামী আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধে অযথা বিলম্ব করলে এবং স্ত্রীকে পাওনা আদায়ের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করলে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।

হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে বলেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো আদালতেরই দেনমোহরের নির্ধারিত অর্থ কমানো, হ্রাস করা কিংবা মওকুফ করার এখতিয়ার নেই।

বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালায় বকেয়া দেনমোহরের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা কখন পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যার ঘাটতি ছিল। এর ফলে সমাজে এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল বকেয়া দেনমোহর আদায় করা যায়।

হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে সেই আইনি অস্পষ্টতা অনেকটাই দূর হলো। আদালত রায়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সূরার প্রাসঙ্গিক আয়াতের উল্লেখ করে বলেন, ইসলামে দেনমোহর বকেয়া রেখে দেওয়ার সুযোগ নেই; এটি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান রায়টিকে নারীর অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই রায়ের ফলে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধে স্বামীর অযথা টালবাহানার সুযোগ কমবে এবং নারীর আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

দেনমোহর কোনো ভবিষ্যৎ ঘটনা—যেমন তালাক বা স্বামীর মৃত্যু—ঘটার পরের পাওনা নয়; স্ত্রী চাইলে জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্ক চলাকালীনও তা দাবি করতে পারবেন—হাইকোর্টের রায়ে এমনই গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবস্থান উঠে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে মার্কিন দূতাবাসের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল

বকেয়া দেনমোহর স্ত্রী দাবি করলেই দিতে হবে: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

আপডেট: ০১:৫৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের সময় নির্ধারিত কিন্তু বকেয়া থাকা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করা মাত্রই পরিশোধ করতে হবে—এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। দেনমোহর পাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর মতো কোনো ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

দেনমোহর-সংক্রান্ত একটি সিভিল রিভিশন মামলার নিষ্পত্তি করে বিচারপতি আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, কোনো স্বামী আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধে অযথা বিলম্ব করলে এবং স্ত্রীকে পাওনা আদায়ের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য করলে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।

হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করে বলেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো আদালতেরই দেনমোহরের নির্ধারিত অর্থ কমানো, হ্রাস করা কিংবা মওকুফ করার এখতিয়ার নেই।

বিদ্যমান মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালায় বকেয়া দেনমোহরের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও তা কখন পরিশোধ করতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যার ঘাটতি ছিল। এর ফলে সমাজে এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পরই কেবল বকেয়া দেনমোহর আদায় করা যায়।

হাইকোর্টের এই রায়ের মাধ্যমে সেই আইনি অস্পষ্টতা অনেকটাই দূর হলো। আদালত রায়ে পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন সূরার প্রাসঙ্গিক আয়াতের উল্লেখ করে বলেন, ইসলামে দেনমোহর বকেয়া রেখে দেওয়ার সুযোগ নেই; এটি স্ত্রীর তাৎক্ষণিক ও অবিচ্ছেদ্য অধিকার।

মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার ইশরাত হাসান রায়টিকে নারীর অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই রায়ের ফলে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর পরিশোধে স্বামীর অযথা টালবাহানার সুযোগ কমবে এবং নারীর আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

দেনমোহর কোনো ভবিষ্যৎ ঘটনা—যেমন তালাক বা স্বামীর মৃত্যু—ঘটার পরের পাওনা নয়; স্ত্রী চাইলে জীবিত ও বৈবাহিক সম্পর্ক চলাকালীনও তা দাবি করতে পারবেন—হাইকোর্টের রায়ে এমনই গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবস্থান উঠে এসেছে।