০৮:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

লিখিত অভিযোগের পরও তালা থানার ওসি আবু বক্করের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১১

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাবার ওপর হামলা ও নিজের শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদনের দুই দিনের মাথায় নীলা খাতুন নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রাম থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, আসামিরা তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) দীর্ঘদিন ধরে নীলাকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে এ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নীলার বাবা লিটন শেখকে বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় নীলা ও তাঁর মা দেলোয়ারা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং নীলার শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার দিনই আহত লিটন শেখ তালা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্বজনদের অভিযোগ। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আসামিরা পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সোমবার সন্ধ্যায় নীলার ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
নীলার মামা সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটিতে ঠেকানো ছিল এবং গলায় ফাঁস লাগার স্বাভাবিক চিহ্ন ছিল না। এছাড়া নীলার মোবাইল ফোনটিও নিখোঁজ রয়েছে, যা কল হলেও কেউ ধরছে না। স্বজনদের স্পষ্ট দাবি, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে নীলাকে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আক্তারুল ইসলাম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নীলার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, থানায় অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মামলাটি হত্যা না আত্মহত্যা—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তাও খতিয়ে দেখা উচিত।
বর্তমানে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, নিখোঁজ মোবাইল উদ্ধার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে মার্কিন দূতাবাসের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল

লিখিত অভিযোগের পরও তালা থানার ওসি আবু বক্করের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ

আপডেট: ১১:১৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাবার ওপর হামলা ও নিজের শ্লীলতাহানির অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদনের দুই দিনের মাথায় নীলা খাতুন নামের এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রাম থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, আসামিরা তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী রকি শেখ (২৪), শোয়েব মালী (১৮) ও ইমন শেখ (২২) দীর্ঘদিন ধরে নীলাকে কলেজে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে এ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নীলার বাবা লিটন শেখকে বাড়ির উঠানে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় নীলা ও তাঁর মা দেলোয়ারা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং নীলার শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার দিনই আহত লিটন শেখ তালা থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে স্বজনদের অভিযোগ। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে আসামিরা পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল এবং এরই ধারাবাহিকতায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে সোমবার সন্ধ্যায় নীলার ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
নীলার মামা সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ করেন, উদ্ধারের সময় নীলার পা মাটিতে ঠেকানো ছিল এবং গলায় ফাঁস লাগার স্বাভাবিক চিহ্ন ছিল না। এছাড়া নীলার মোবাইল ফোনটিও নিখোঁজ রয়েছে, যা কল হলেও কেউ ধরছে না। স্বজনদের স্পষ্ট দাবি, সময়মতো পুলিশ ব্যবস্থা নিলে নীলাকে এভাবে প্রাণ দিতে হতো না।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তালা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আক্তারুল ইসলাম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নীলার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী মাধব দত্ত এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, থানায় অভিযোগের পর ব্যবস্থা না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মামলাটি হত্যা না আত্মহত্যা—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তাও খতিয়ে দেখা উচিত।
বর্তমানে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, নিখোঁজ মোবাইল উদ্ধার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।