০২:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফির ৪-৬ গুণ আট মাসে সরকারি রাজস্ব ২ কোটি ৩১ লাখ, অতিরিক্ত আদায়ের হিসাব ৮ কোটি টাকার বেশি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

নিজের কেনা জমির বৈধ দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তুলতে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে চার থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফির বাইরে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থের কোনো রসিদও দেওয়া হয় না।

সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ৪৮ হাজার ৩৮৫টি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তোলা হয়েছে। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা।

তবে বিভিন্ন কার্যালয়ে অনুসন্ধানে পাওয়া অতিরিক্ত আদায়ের হার ও নকল উত্তোলনের সংখ্যা বিবেচনায় হিসাব করে দেখা গেছে, একই সময়ে সরকারি ফির বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ ৮ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
বগুড়ার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিসে সরকারি নির্দেশনার ব্যানারে দলিলের নকলের জন্য নির্ধারিত ফি উল্লেখ রয়েছে। কোথাও কয়েক শ টাকা, কোথাও সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে একটি দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাহালু সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বোনের জমির দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী খালেদ সিদ্দিকী।

তিনি জানান, তাঁর দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ছিল ১ হাজার টাকা। কিন্তু তাঁর কাছে ২ হাজার ৭০০ টাকা দাবি করা হয়। পরে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর ১ হাজার ৫০০ টাকায় কাজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। রসিদ চাইলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় বলেও তিনি জানান।

সম্প্রতি কাহালু সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জমির সার্টিফাইড কপি নিয়েছেন কাঁচামালের আড়তদার বিপলু ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হাসান আলী। তাঁদের দলিলের সরকারি ফি ছিল ৬২৫ টাকা করে। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একটি দলিলের নকলের জন্য প্রায় ৩ হাজার টাকা, কাহালুতে ২ হাজার ৭০০ টাকা, সারিয়াকান্দি ও সোনাতনায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাহালু-নন্দীগ্রাম এলাকায় অন্তত ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর ও শিবগঞ্জেও একটি দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে অন্তত ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল লেখকদের সহকারীদের কাছে নকল তোলার খরচ জানতে চাইলে তাঁরা ৩ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। সরকারি ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা নির্ধারিত ফির পরিবর্তে নিজেদের ‘রেট’-এর কথাই জানান বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বগুড়া সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদুর রহমান বলেন, “সরকার নির্ধারিত পারিশ্রমিকে তাঁদের পোষায় না। এ কারণে তাঁরা নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেছেন।”

তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আট মাসে ৪৮ হাজার ৩৮৫টি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তোলা হয়েছে। এসব সেবা থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা।

অনুসন্ধানে বিভিন্ন কার্যালয়ে সরকারি ফির অতিরিক্ত যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেই হার নকল উত্তোলনের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে হিসাব করলে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ ৮ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

তবে এই অর্থ কারা নিচ্ছেন, কীভাবে ভাগ হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নকল বা সার্টিফাইড কপি উত্তোলন ছাড়াও দলিল নিবন্ধন, তল্লাশি ও পরিদর্শন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, দান বা হেবা, বণ্টননামা ও বন্ধকসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রেও সরকারি নির্ধারিত ফি ও সম্মানীর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকার বেশি ঘুষ আদায় হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ তুলে ধরা হলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হয়নি বলে দাবি তাঁর।

তবে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেশ কুমার পাল, কাহালু ও গাবতলীর সাব-রেজিস্ট্রার কাইউম মজুমদার এবং শাজাহানপুরের সাব-রেজিস্ট্রার শাকিব রায়হান শরীফ তাঁদের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল করিম বলেন, দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তুলতে প্রতিটি খাতে সরকারি ফি নির্ধারিত রয়েছে। দলিল লেখকদের জন্যও নির্ধারিত সম্মানী রয়েছে।

তিনি বলেন, “এর বাইরে কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।”

সরকারি ফি ও বাস্তবে আদায় করা অর্থের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্ত হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রকৃত চিত্র এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি মনিরুলের ১.৮২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক

বগুড়ায় দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফির ৪-৬ গুণ আট মাসে সরকারি রাজস্ব ২ কোটি ৩১ লাখ, অতিরিক্ত আদায়ের হিসাব ৮ কোটি টাকার বেশি

আপডেট: ১০:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজের কেনা জমির বৈধ দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তুলতে সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে চার থেকে ছয় গুণ পর্যন্ত বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ফির বাইরে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থের কোনো রসিদও দেওয়া হয় না।

সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে ৪৮ হাজার ৩৮৫টি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তোলা হয়েছে। এ খাত থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা।

তবে বিভিন্ন কার্যালয়ে অনুসন্ধানে পাওয়া অতিরিক্ত আদায়ের হার ও নকল উত্তোলনের সংখ্যা বিবেচনায় হিসাব করে দেখা গেছে, একই সময়ে সরকারি ফির বাইরে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ ৮ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
বগুড়ার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিসে সরকারি নির্দেশনার ব্যানারে দলিলের নকলের জন্য নির্ধারিত ফি উল্লেখ রয়েছে। কোথাও কয়েক শ টাকা, কোথাও সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নির্ধারিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে একটি দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কাহালু সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বোনের জমির দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী খালেদ সিদ্দিকী।

তিনি জানান, তাঁর দলিলের নকল তুলতে সরকারি ফি ছিল ১ হাজার টাকা। কিন্তু তাঁর কাছে ২ হাজার ৭০০ টাকা দাবি করা হয়। পরে নিজের পরিচয় দেওয়ার পর ১ হাজার ৫০০ টাকায় কাজ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। রসিদ চাইলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় বলেও তিনি জানান।

সম্প্রতি কাহালু সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জমির সার্টিফাইড কপি নিয়েছেন কাঁচামালের আড়তদার বিপলু ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী হাসান আলী। তাঁদের দলিলের সরকারি ফি ছিল ৬২৫ টাকা করে। কিন্তু তাঁদের কাছ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে একটি দলিলের নকলের জন্য প্রায় ৩ হাজার টাকা, কাহালুতে ২ হাজার ৭০০ টাকা, সারিয়াকান্দি ও সোনাতনায় ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং কাহালু-নন্দীগ্রাম এলাকায় অন্তত ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর ও শিবগঞ্জেও একটি দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলতে অন্তত ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল লেখকদের সহকারীদের কাছে নকল তোলার খরচ জানতে চাইলে তাঁরা ৩ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। সরকারি ফি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা নির্ধারিত ফির পরিবর্তে নিজেদের ‘রেট’-এর কথাই জানান বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

বগুড়া সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদুর রহমান বলেন, “সরকার নির্ধারিত পারিশ্রমিকে তাঁদের পোষায় না। এ কারণে তাঁরা নিজেদের মতো করে অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করেছেন।”

তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রারের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আট মাসে ৪৮ হাজার ৩৮৫টি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তোলা হয়েছে। এসব সেবা থেকে সরকারের রাজস্ব এসেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬৬ হাজার ৮০৭ টাকা।

অনুসন্ধানে বিভিন্ন কার্যালয়ে সরকারি ফির অতিরিক্ত যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেই হার নকল উত্তোলনের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে হিসাব করলে অতিরিক্ত আদায়ের পরিমাণ ৮ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

তবে এই অর্থ কারা নিচ্ছেন, কীভাবে ভাগ হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়।

সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে নকল বা সার্টিফাইড কপি উত্তোলন ছাড়াও দলিল নিবন্ধন, তল্লাশি ও পরিদর্শন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, দান বা হেবা, বণ্টননামা ও বন্ধকসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এসব ক্ষেত্রেও সরকারি নির্ধারিত ফি ও সম্মানীর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুপ্র) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কেজিএম ফারুক বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকার বেশি ঘুষ আদায় হচ্ছে। বিভিন্ন সময় এসব অভিযোগ তুলে ধরা হলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হয়নি বলে দাবি তাঁর।

তবে বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বগুড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রার অনিমেশ কুমার পাল, কাহালু ও গাবতলীর সাব-রেজিস্ট্রার কাইউম মজুমদার এবং শাজাহানপুরের সাব-রেজিস্ট্রার শাকিব রায়হান শরীফ তাঁদের কার্যালয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বগুড়া জেলা রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল করিম বলেন, দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল তুলতে প্রতিটি খাতে সরকারি ফি নির্ধারিত রয়েছে। দলিল লেখকদের জন্যও নির্ধারিত সম্মানী রয়েছে।

তিনি বলেন, “এর বাইরে কোনো ধরনের অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই।”

সরকারি ফি ও বাস্তবে আদায় করা অর্থের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধানের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদন্ত হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রকৃত চিত্র এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা স্পষ্ট হতে পারে।