০৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যশোর নগর বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৯

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছে যশোর নগর বিএনপি।

শনিবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে।

তিনি বলেন, “বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পরাজিত শক্তির ঐক্য আমরা দেখেছি। দেশের মানুষ এক পরাজিত শক্তিকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে এবং আরেক পরাজিত শক্তিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত করেছিল।”

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, তাঁর দলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই পক্ষের রাজনৈতিক ঐক্যের ইতিহাস পুরোনো। ১৯৮৬ সালে এরশাদের আমলে এবং ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারকে অস্থিতিশীল করার আন্দোলনে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তারা আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।

সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সুরক্ষার দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের।

নেতারা বলেন, জনগণের সমর্থনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারকে সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশের অস্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।”

দেশ ও দেশের বাইরে থাকা বিভিন্ন পক্ষের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।

সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির নেতারা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আইন তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।”

বিএনপি ক্ষমতাসীন অবস্থায় অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকেও আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই তাঁদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ।

বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, নগর মহিলা দলের সভাপতি শামসুন্নাহার পান্না, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল বাশার সুজন এবং নগর ছাত্রদল নেতা নিয়াজ মাহমুদ শিশির।

সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম।

সমাবেশ শেষে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি যশোর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহারে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়লেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর-২ আসনের সাবেক এমপি মনিরুলের ১.৮২ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক

দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যশোর নগর বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ

আপডেট: ০৯:৫৯:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছে যশোর নগর বিএনপি।

শনিবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

সমাবেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে বিএনপি মনে করে।

তিনি বলেন, “বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পরাজিত শক্তির ঐক্য আমরা দেখেছি। দেশের মানুষ এক পরাজিত শক্তিকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে এবং আরেক পরাজিত শক্তিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত করেছিল।”

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, তাঁর দলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুই পক্ষের রাজনৈতিক ঐক্যের ইতিহাস পুরোনো। ১৯৮৬ সালে এরশাদের আমলে এবং ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারকে অস্থিতিশীল করার আন্দোলনে তাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তারা আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।

সমাবেশে বিএনপির নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও শক্ত করার সুযোগ তৈরি করেছে। তাঁদের দাবি, ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা সুরক্ষার দায়িত্ব বিএনপির নেতাকর্মীদের।

নেতারা বলেন, জনগণের সমর্থনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারকে সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে দেশের অস্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখীন হবে।”

দেশ ও দেশের বাইরে থাকা বিভিন্ন পক্ষের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।

সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির নেতারা।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আইন তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিকে সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ধর্মবিশ্বাসকে নিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।”

বিএনপি ক্ষমতাসীন অবস্থায় অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীকেও আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই তাঁদের দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদ।

বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, নগর মহিলা দলের সভাপতি শামসুন্নাহার পান্না, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল বাশার সুজন এবং নগর ছাত্রদল নেতা নিয়াজ মাহমুদ শিশির।

সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম।

সমাবেশ শেষে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি যশোর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মনিহারে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরে দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়লেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।