যশোরের ঝিকরগাছায় ১৭ কোটি টাকা মূল্যের কথিত প্লাটিনাম বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক শরিফুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের এসআই দেব্রবত ঘোষের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় রোববার রাতে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের সিটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট সোহরাব হোসেন পিন্টু।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোহরাব হোসেনের প্রতিষ্ঠানে তিনজন কর্মচারী কাজ করেন। তাদের মধ্যে মামুন নামে একজন প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে কর্মরত। গত ৭ আগস্ট মামুন তার পূর্বপরিচিত শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে জানতে পারেন, শরিফুলসহ কয়েকজন একটি মূল্যবান ধাতব পদার্থ পেয়েছেন। তারা সেটিকে প্লাটিনাম দাবি করে এর বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা বলে জানান।
শরিফুল মামুনকে আরও জানান, কথিত ওই ধাতব পদার্থ বিক্রির জন্য তারা একজন বিশ্বস্ত ক্রেতা খুঁজছেন। বিষয়টি পরে মামুন তার কর্মস্থলের মালিক সোহরাব হোসেন পিন্টুকে জানান।
এরপর গত ১০ আগস্ট শরিফুলসহ কয়েকজন সোহরাব হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ওই ব্যক্তি কথিত ধাতব পদার্থটি কিনবেন এবং নগদ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকেই সেটি নিয়ে যাবেন।
অভিযোগে বলা হয়, কথিত ধাতব পদার্থটি সংগ্রহ করতে ৭২ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। পরে সেটি ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করে বিপুল লাভ হবে এবং সেই লাভের টাকা ভাগ করে নেওয়া হবে—এমন প্রলোভন দেখানো হয়।
এই প্রলোভনে পড়ে সোহরাব হোসেন ও তার কর্মচারী মামুন বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করেন। পরে তারা শরিফুলকে মোট ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ১৯ আগস্ট কথিত ধাতব পদার্থটি আনতে সোহরাব হোসেন সাতক্ষীরায় গেলে শরিফুল তাকে একটি প্লাস্টিকের বক্স দেন। বক্সটি বাড়িতে গিয়ে খুলতে বলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে বাড়িতে ফিরে বক্সটি খুলে সোহরাব হোসেন দেখতে পান, ভেতরে কোনো মূল্যবান ধাতব পদার্থ নেই; রয়েছে একটি ইটের টুকরা। তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এরপর তিনি বিষয়টি যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে জানান। পুলিশ সুপারের নির্দেশে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত শরিফুলের অবস্থান শনাক্ত করে।
পরে ঢাকার রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
আটক শরিফুলকে সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




















