: বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি ওশেন উইনার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জাহাজটিতে থাকা আরও ২২ জন নাবিকের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের উদ্ধারে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে দুটি লাইফ র্যাফট থেকে ওই দুই নাবিককে উদ্ধার করা হয়। ভারতীয় কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ৮টার দিকে কাছাকাছি থাকা একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়া দুই নাবিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, ওড়িশার পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে শনিবার জাহাজটি ডুবে যায়। এতে মোট ২৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ২০ জন চীনা, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক।
জাহাজটি ওড়িশা থেকে লোহার আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। শুক্রবার ওড়িশা উপকূল ছাড়ার পর শনিবার জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত হয়।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করে ভারতীয় কোস্ট গার্ড। নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে কোস্ট গার্ডের আইসিজিএস ভারাদ, আইসিজিএস আনমল এবং শ্রী বিজয়পুরম থেকে আইসিজিএস বিজিতকে মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া আশপাশে থাকা অন্যান্য জাহাজকেও নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। সমুদ্রে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
তবে ঠিক কী কারণে এমভি ওশেন উইনার ডুবে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, এমভি ওশেন উইনার ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি বাল্ক ক্যারিয়ার। জাহাজটির গন্তব্য ছিল সিঙ্গাপুর।
পারাদ্বীপ বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর আলেখা চরণ সাহু নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নিখোঁজ ২২ নাবিকের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন কি না এবং থাকলে তার পরিচয় কী—এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের সন্ধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান চলছে।





















