০৫:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচারের অভিযোগ, দুই বন কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১১

: পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, ভুয়া জোত পারমিট ব্যবহার, কাঠ পরিবহনে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ইউএসএফ ডিভিশনের কুতুকছড়ি রেঞ্জ ও ইউএসএফ সদর রেঞ্জ থেকে বদলি হয়ে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে যোগ দেন ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন। একইভাবে পানছড়ি রেঞ্জ ও রামগড় চেক স্টেশন থেকে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব নেন ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫৪ হাজার ৫১২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গোদা, চাম্পাফুল, গর্জন, চাপালিশসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ জোত পারমিটের আড়ালে পাচার করা হচ্ছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন কুতুকছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও বিপুলসংখ্যক সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়। এমনকি একজনের নামে বরাদ্দ করা জোত অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে কয়েক লাখ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউএসএফ সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার কাঠবোঝাই গাড়ি পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই ডি-ফরম ব্যবহার করে একাধিকবার কাঠ পরিবহনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা যাচাইকৃত নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, আনোয়ার হোসেনের ব্যাংক হিসাবে তাঁর বেতনের বাইরে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। তবে এ অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া নাড়াইছড়ি রেঞ্জে নির্ধারিত দুই বছরের দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর অর্থের বিনিময়ে আরও এক বছরের জন্য তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জ থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি গাড়ি বিভিন্ন সময়ে রামগড় চেক স্টেশনে আটক হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রেঞ্জের বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের আর্থিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্বেও আনোয়ার হোসেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমনকি রেঞ্জের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও তিনি পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, জোত পারমিটের ব্যবহার, কাঠ পরিবহনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেন—সব বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, জোত পারমিটের রেকর্ড, ডি-ফরম, কাঠ পরিবহনের অনুমোদন, চেকপোস্টের নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেসিক ব্যাংকে ১,১৭৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধান

নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ পাচারের অভিযোগ, দুই বন কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন

আপডেট: ০৪:৩২:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

: পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নাড়াইছড়ি রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, ভুয়া জোত পারমিট ব্যবহার, কাঠ পরিবহনে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ইউএসএফ ডিভিশনের কুতুকছড়ি রেঞ্জ ও ইউএসএফ সদর রেঞ্জ থেকে বদলি হয়ে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে যোগ দেন ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন। একইভাবে পানছড়ি রেঞ্জ ও রামগড় চেক স্টেশন থেকে নাড়াইছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব নেন ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের প্রায় ৫৪ হাজার ৫১২ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গোদা, চাম্পাফুল, গর্জন, চাপালিশসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ জোত পারমিটের আড়ালে পাচার করা হচ্ছে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন কুতুকছড়ি রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও বিপুলসংখ্যক সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়। এমনকি একজনের নামে বরাদ্দ করা জোত অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে কয়েক লাখ সেফটি জোত পারমিট ইস্যু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউএসএফ সদর রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কয়েক হাজার কাঠবোঝাই গাড়ি পরিবহনের অনুমোদন দেওয়া হয়। একই ডি-ফরম ব্যবহার করে একাধিকবার কাঠ পরিবহনের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা যাচাইকৃত নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, আনোয়ার হোসেনের ব্যাংক হিসাবে তাঁর বেতনের বাইরে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। তবে এ অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি অভিযোগকারীরা।

এ ছাড়া নাড়াইছড়ি রেঞ্জে নির্ধারিত দুই বছরের দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার পর অর্থের বিনিময়ে আরও এক বছরের জন্য তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নাড়াইছড়ি রেঞ্জ থেকে কাঠবোঝাই কয়েকটি গাড়ি বিভিন্ন সময়ে রামগড় চেক স্টেশনে আটক হলেও পরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রেঞ্জের বিভিন্ন কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, নাড়াইছড়ি রেঞ্জের আর্থিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দায়িত্বেও আনোয়ার হোসেনের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমনকি রেঞ্জের ক্যাশিয়ারের দায়িত্বও তিনি পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ পাচার, জোত পারমিটের ব্যবহার, কাঠ পরিবহনের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেন—সব বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তাদের দাবি, জোত পারমিটের রেকর্ড, ডি-ফরম, কাঠ পরিবহনের অনুমোদন, চেকপোস্টের নথি, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব পর্যালোচনা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ডেপুটি রেঞ্জার আনোয়ার হোসেন ও ডেপুটি রেঞ্জার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।