সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও বিদ্যালয়ের সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুর রহমান সম্প্রতি সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত তিনটি সরকারি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি প্রধান শিক্ষকের মালিকানাধীন একটি কম্পিউটার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অতীতে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী কয়েকজন শিশুকে ভর্তি না দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৭ বছরে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এসব খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগকারীর দাবি। তার ভাষ্য, বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড খুবই সীমিত।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। অভিযোগকারীর দাবি, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রমে অধিক সময় ব্যস্ত থাকেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং সহকারী শিক্ষকদের কার্যক্রমও যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না।
এ ছাড়া অতীতে একাধিকবার বিদ্যালয়ে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার ঘটনাও বিভিন্ন পরিদর্শন প্রতিবেদনে লিপিবদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিদর্শন রেজিস্টারেও এ সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নৈনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রশিদ। অভিযোগের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি সবসময় বিদ্যালয়েই থাকে। একটি বাসায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ করা হয়। আর এনজিও সংস্থাটিতে বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সময় দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের জন্য পাঠানো হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এনামুল হক মোল্লা বলেন, ‘জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ হয়েছে, সেটা এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আমাদের কাছে এলে তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




















